খাদ্য ও পুষ্টি

অনিদ্রা দূর করবে যে ৫টি খাবার

এমবিবিএস (৫ম বর্ষ), শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল।

আজকাল নিদ্রাহীনতা (insomnia) বা ঘুমা না আসার অভিযোগ করেন অনেকে। একটু বয়স বাড়লেই এটা অনেকের জন্য দুশ্চিন্তার কারন হয়ে দাঁড়ায়। অনিদ্রা দূর করতে অনেকেই অনেক কিছু করে থাকেন। অথচ খাদ্যাভ্যাসে একটু পরিবর্তন আনলেই আপনার ঘুম হতে পারে দারুণ।

১) মধু

মধুর অনেক গুণের মধ্যে একটি হচ্ছে এটা নিদ্রাহীনতা রোধে খুবই কার্যকর। মধু মানসিক অস্থিরতা দূর করে মনে প্রশান্তি বিস্তার করে। এছাড়া এটা মস্তিষ্কের ক্রিয়াক্ষমতা ভালেঅ রাখে। রাতে ঘুমানোর আগে দুই চামচ মধু নিয়মিত খেলে ঘুম ভালো হয়। এছাড়া এক কাপ গরম দুধের সাথে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলে অনিদ্রার সমস্যা দূর হয়ে যায়।

২) মাছ

মাছে থাকে ট্রিপটোফ্যান। এটা আমাদের শরীরে সেরোটোনিনের পরিমাণ বাড়িয়ে মেলাটোনিন তৈরীতে ভূমিকা রাখে। মেলাটোনিন আমাদের ঘুমানো ও জেগে উঠার চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। তাছাড়া অধিকাংশ মাছেই রয়েছে ভিটামিন বি-৬। এই ভিটামিনটিও মেলাটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ট্রিপটোফ্যান সমৃদ্ধ খাবার খান তাদের রাতের ঘুম ভাল হয়।

৩) দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার

এক সময় মুরব্বিরা বলতেন, শোয়ার আগে এক গ্লাস গরম দুধ পান করলে ঘুম ভালো হয়। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে প্রচুর পরিমাণে মেলাটোনিন ও ক্যালসিয়াম থাকে। এগুলো অনিদ্রা দূর করতে সহায়ক। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার না খেলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।

আরো পড়ুন  স্ট্রবেরির ১০টি পুষ্টিগুণ

৪) কলা

কলাতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে। এছাড়া এতে ভালো পরিমাণের ম্যাগনেসিয়াম থাকে। পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম উভয় খনিজ উপাদানই আমাদের মাংসপেশীকে বিশ্রামে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া ম্যাগনেসিয়ামের অভাবজনিত কারণে রেস্টলেস লেগ সিনড্রম (Restless leg syndrome) হতে পারে যা রাতের বেলায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। কলায় ট্রিপটোফ্যান নামক এমাইনো এসিডও থাকে যা অনিদ্রা দূর করে।

৫) বাদাম

বাদামে ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম দুই ধরনের খনিজ উপাদান থাকে যা ঘুমকে তরান্বিত করে। বাদামের বিশেষ তেল সেরোটোনিন লেভেলকে বাড়িয়ে দেয়। ফলে অনিদ্রা দূর হয়। এছাড়া বাদামে থাকা প্রোটিন রক্তের স্থিতিশীল সুগারের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। এতে ঘুম ভালো হয়।

দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় এই খাবারগুলো যোগ করে সহজেই নিদ্রাহীনতার প্রকোপ কমিয়ে আনা যায়। তাই আজকেই বদলে ফেলুন খ্যাদ্যাভ্যাস।