স্বাস্থ্য

আক্কেল দাঁতের সমস্যায় ৭টি করণীয়

বিডিএস, ডেন্টাল সার্জন ও প্র্যাকটিশনার, এস আর ডেন্টাল কেয়ার, চট্টগ্রাম।

আক্কেল দাঁত নিয়ে আমরা কমবেশি সবাই ভুগে থাকি। আক্কেল দাঁতের ব্যথা খুবই অসহনীয়। আমাদের মুখগহ্বরের ওপরের ও নিচের পাটির সবচেয়ে পেছনে বামে-ডানে মিলিয়ে মোট চারটি পেষণ দাঁত রয়েছে। এগুলোই আক্কেল দাঁত। কারো চারটি দাঁতই উঠতে পারে, আবার কারো নাও উঠতে পারে। এতে চিন্তার কিছু নেই। সাধারণত ১৭ থেকে ২১ বছর বয়সের মধ্যে এই দাঁত উঠে  থাকে। কারো হয়ত এই দাঁত আংশিক ভাবে উঠে, অনেকের আবার মাড়ির নিচেই থেকে যায়।

আক্কেল দাঁত ওঠার সময় প্রচণ্ড ব্যথা হয়। ব্যথায় মুখের ভেতরসহ গালও ফুলে যায়। আমাদের দুধ দাঁতগুলো পড়ে গেলে সে জায়গায় স্থায়ী দাঁতগুলো আসতে থাকে। অর্থাৎ স্থায়ী দাঁত গুলোর জন্য ফাঁকা জায়গা থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মুখের ভিতর আক্কেল দাঁতের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। আক্কেল দাঁত তখন আংশিক ভাবে এবং আঁকাবাঁকা হয়ে ওঠে। আবার কখনো উঠতেই পারে না। মাড়ির নিচে শুয়ে থাকে। এছাড়া আক্কেল দাঁতের মাড়ির টিস্যুর নিচে অনেক সময় খাবার জমে থাকে। এতে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে মাড়িতে ইনফেকশন হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে পেরিকরোনাইটিস বলে। ইনফেকশনের ফলে তীব্র ব্যথা হয়, মাড়ি ও গাল ফুলে যায়। মুখ হা করতে অসুবিধা হয়। মুখে দুর্গন্ধ এবং কারো কারো জ্বর হতেও পারে। ভেতরের দিকে এই দাঁতের অবস্থান হওয়ায় ব্রাশ ঠিকমত পৌঁছে না। এতে আক্কেল দাঁত ও তার পাশের দাঁত দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক সময় খাবার জমে ক্যারিজও সৃষ্টি হতে পারে।

চিকিৎসা ও করণীয়:

১. আক্কেল দাঁতের সমস্যা হলেই রেজিস্টার্ড দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কোনভাবেই অবহেলা করা যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এক্সরে করে আক্কেল দাঁত এর অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে জানতে হবে।

২. আক্কেল দাঁত সাধারণত খাবার চিবোতে তেমন কাজে আসে না। খাবার চিবোনোর জন্য আক্কেল দাঁতের সামনে আরো দুটো পেষণ দাঁত রয়েছে। আক্কেল দাঁতে সমস্যা হলে তা সংরক্ষণের চিকিৎসা বা রুট ক্যানাল ট্রিটমেন্ট করাও বেশ কষ্টসাধ্য। তাই আক্রান্ত দাঁতটি ফেলে দেয়ার পরামর্শই সাধারণত দেয়া হয়। তবে দাঁতটির উঠার পথ ও পর্যাপ্ত অবস্থান থাকলে হালকা গরম লবণ পানি দিয়ে কুলিকুচি করা যেতে পারে।

আরো পড়ুন  ক্যানসার রোগের চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো কি কি ?

৩. ব্যথা থাকলে সাধারণত ব্যথানাশক ওষুধেই তা সেরে যায়। যদি দাঁতে ইনফেকশন হয়ে যায় তবে ডেন্টিস্ট এর প্রেসক্রিপশন অনুসারে এন্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ খেতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা তীব্র হলে সার্জারির মাধ্যমে দাঁতটি ফেলে দিতে হতে পারে।

৪. কেউ কেউ আছেন ব্যথা হলে ব্যথানাশক ওষুধ ও এন্টিবায়োটিক খেয়ে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করেন। চিকিৎসার প্রয়োজন বোধ করেন না। কিন্তু দাঁতটি যদি হাড় এর মধ্যে থেকে থাকে, তখন ইনফেকশন হয়ে হাড়ের ক্ষয় হতে হতে গলার কাছে ইনফেকশন চলে যেতে পারে। এটি বিপদজনক। এমনটি করা যাবে না।

৫. সার্জারি করে দাঁত ফেলে দেয়ার পর কিছুদিন ব্যথা, মুখ ফুলে যাওয়া, হা করতে না পারা, শক্ত খাবার খেতে অসুবিধা হওয়া ইত্যাদি হতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।

৬. যদি আক্কেল দাঁতের পাশের দাঁতে ক্যাভিটি হয়ে থাকে তবে আক্কেল দাঁত ফেলার পর ক্ষতস্থান শুকিয়ে গেলে পাশের দাঁতের চিকিৎসাও করাতে হবে।

৭. আক্কেল দাঁত তুলে ফেলাটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। নিজে কিংবা চিকিৎসক নন এমন কারো কাছে গেলে দাঁতটি ঠিকমত তোলা নাও হতে পারে।  বরং ভেঙ্গে গিয়ে দাঁতটি ভেতরে থেকে যেতে পারে। যা স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তখন বিপদ আরো বেশি হতে পারে।

আক্কেল দাঁত প্রতিরোধের কিছু নেই। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে এ সংক্রান্ত জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত সকালে ও রাতে খাওয়ার পর সঠিক নিয়মে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে।