স্বাস্থ্য

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা অস্বস্তিকর পেটের পীড়া থেকে মুক্তির ৫টি উপায়

এমবিবিএস (৫ম বর্ষ), স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ। পরিচালক, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, হিউম্যান এইড বাংলাদেশ।

“Irritable Bowel Syndrome” (ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম) বা সংক্ষেপে IBS খুবই পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। বিভিন্ন গবেষণায় চিকিৎসকরা দাবী করছেন, বিশ্বজুড়ে Sickness absenteeism বা অসুস্থতা জনিত কাজে অনুপস্থিতির প্রধান কারণ IBS। তবে স্কুল, কলেজ বা অফিস ফাঁকি দেয়ার যৌক্তিক ব্যাখ্যা পেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার কোন কারণ নেই। কারণ ক্ষেত্রবিশেষে IBS এক অস্বস্তিকর সমস্যার নাম হয়ে উঠতে পারে। তাই নিয়মিত সুস্থ জীবন যাপন করতে IBS এড়িয়ে চলুন। চলুন IBS থেকে বেঁচে থাকার কিছু উপায় জেনে নেই-

IBS এর প্রতিকারঃ

১. বদলে ফেলুন খাদ্যাভ্যাসঃ IBS নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। তবে একই খাবার একজনের ক্ষেত্রে উপকারি প্রমাণিত হলেও আরেকজনের ক্ষেত্রে তা উপসর্গ আরো তীব্রতরও করতে পারে। আঁশযুক্ত সবজি ও ফলমূল কোষ্ঠকাঠিন্য প্রধান IBS নিয়ন্ত্রণে ভালো ভূমিকা রাখলেও ডায়রিয়া প্রধান IBS এর ক্ষেত্রে তা ক্ষতিকর। তাছাড়া আঁশযুক্ত খাবার বেশি খেলে পেটফাঁপা ও বায়ু হতে পারে।

IBS নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিমাণে অল্প খাবার খান এবং প্রচুর পানি পান করুন। গাজর, স্ট্রবেরি, জাম ও আপেল IBS রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারি।

২. চাপমুক্ত থাকুনঃ IBS নিয়ন্ত্রণে রাখার অন্যতম মূলমন্ত্র হলো মানসিক চাপ মুক্ত থাকা। দুশ্চিন্তা ও হতাশা থেকে নিজেকে বের করে নিয়ে আসুন। প্রয়োজনে মনঃরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে পারেন।

৩. নিয়মিত ব্যায়াম করুনঃ নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীরচর্চা করুন। ব্যায়াম একদিকে যেমন হজমশক্তি বাড়ায় অন্যদিকে তা মানসিক অবসাদও দূর করে।

৪. ওষুধ গ্রহণে সতর্ক হনঃ সমস্যা খুব তীব্র হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। উপসর্গ অনুযায়ী ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খেতে পারেন। এতে অন্তত সাময়িক স্বাস্ত লাভ করবেন।

৫. গর্ভকালীন সময়ে সাবধানতা অবলম্বন করুনঃ IBS থাকলে গর্ভাবস্থায় ওষুধ সেবনে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মায়ের যত্ন নিতে হবে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

যদি IBS এর উপসর্গগুলোর পাশাপাশি আপনার নিম্নোক্ত কোন উপসর্গ থাকেন তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোনঃ

১. পায়খানার সাথে যদি রক্ত যায়।

২. যদি দ্রুত ওজন হ্রাস পায়।

৩. যদি রক্তশূন্যতা বা রক্তাল্পতা দেখা দেয়।

৪. আগে ছিলো না এমন কারো যদি ৪০ বছর বয়সের পরে IBS দেখা দেয়।