খাদ্য ও পুষ্টি

কিডনি ভালো রাখবে যে ৮টি খাবার

ইন্টার্নি চিকিৎসক, কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতাল, সিএমএইচ, ঢাকা।

শরীরের সুস্থতায় কিডনির ভালো থাকা খুব জরুরি। কিডনি প্রতিদিন প্রায় ১৭০ লিটার রক্ত পরিশোধন করে শরীরকে সুস্থ রাখে। কিডনি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ও রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।এছাড়া দেহের হাড় মজবুতকরনেও কিডনির ভূমিকা রয়েছে। কিডনি সুরক্ষার জন্য বিশেষ কিছু খাবার নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে। কিডনির স্বাস্থ্য সুন্দর ও স্বাভাবিক রাখতে এই খাবারগুলোর অবদান অপরিসীম। চলুন খাবারগুলো সম্পর্কে জেনে নেই।

১. ক্যাপসিকাম: কিডনি সুস্থ রাখতে ক্যাপসিকাম হতে পারে প্রথম পছন্দ। সালাদ কিংবা যেকোন রান্নাকে সুস্বাদু করতে এর জুড়ি নেই। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, বি-৬, ফলিক এসিড এবং ফাইবার বা আঁশ। এছাড়াও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লাইকোপিন, যা কিনা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক।

২. বাঁধাকপি ও ফুলকপি: বাঁধাকপি ও ফুলকপিকে বলা যায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-এর খনি। এরা শরীরের ক্ষতিকারক ফ্রি রেডিকেলস এর বিরুদ্ধে কাজ করে কিডনিকে শক্তিশালী করে। পাশাপাশি ক্যান্সার এবং হৃদরোগ প্রতিরোধেও এরা কাজ করে। দামে সস্তা হলেও এগুলোতে রয়েছে ভিটামিন কে, সি, বি-৬ ও ফলিক এসিড। ফুলকপির একটি বিশেষ গুণ হচ্ছে, এটি শরীর থেকে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত উপাদান দূর করতে সহায়তা করে।

৩. রসুন: রসুনের গুণের কথা আমাদের সবারই জানা। এটি কিডনি প্রদাহ উপশম করার পাশাপাশি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। কিডনি রোগীদের জন্য রসুন বেশ উপকারী।

৪. পেঁয়াজ: পেঁয়াজের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ফ্লাভোনয়েড। এটি রক্তনালীতে চর্বি জমা প্রতিহত করে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কিডনিরোগজনিত উচ্চরক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। ক্যান্সার প্রতিরোধেও এর ভূমিকা রয়েছে।

আরো পড়ুন  অনিদ্রা দূর করবে যে ৫টি খাবার

৫. আপেল: বলা হয়ে থাকে প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে ডাক্তার থেকে দূরে থাকা যায়। নিয়মিত আপেল খাওয়ার অভ্যাস করলে তা কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও রক্তে কোলেস্টেরল কমাতে, হৃদরোগ এবং ক্যানসার প্রতিরোধেও এর ভূমিকা অনন্য।

৬. ডিমের সাদা অংশ: অনেকেই সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে ডিমকে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেন। কিন্তু ডিমের সাদা অংশে যে প্রোটিন রয়েছে তা কিডনির জন্য খুবই দরকারি।

৭. মাছ: মাছকে বলা হয়ে থাকে নিরাপদ প্রোটিনের উৎস। দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে মাংসের চেয়ে মাছের ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের পাশাপাশি মাছে রয়েছে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড। এটি কিডনি, হার্ট ও লিভারের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। এছাড়া কোলেস্টেরল কমাতেও এর যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।

৮. অলিভ ওয়েল: যেসব দেশে রান্নায় অলিভ ওয়েল বা জলপাই তেল ব্যবহার করা হয় সেসব দেশে কিডনি রোগ, হৃদরোগ, ক্যান্সার ইত্যাদির হার তুলনামূলকভাবে কম হয়। অলিভ ওয়েলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পলিফেনল, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে চমৎকার কাজ করে। রান্নায় অথবা সালাদে অলিভ ওয়েল যোগ করলে বাড়তি স্বাদ ও পুষ্টির যোগান বাড়ে।