স্বাস্থ্য

ক্যান্সারের ৯টি কারন ও রোগনির্ণয়ের উপায়

এমবিবিএস। চিকিৎসক ও উদ্যোক্তা। পরিচালক, স্পর্শ মিডিয়া।

ক্যান্সার হচ্ছে দেহের কোন কোষগুচ্ছের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি যা সাধারণ দেহকোষের তুলনায় অনেক দ্রুত বাড়ে। এই কোষগুলো উৎপত্তি স্থলের কোষ থেকে ভিন্নধর্মী হয়। সাধারণত বিশেষ কোন বাহ্যিক শক্তির প্রভাবে এই বৃদ্ধি হয়ে থাকে। যেই কারনে এই বৃদ্ধি শুরু হয় সে কারণটি পরে বন্ধ হয়ে গেলেও কোষবৃদ্ধি একই গতিতে বাড়তে থাকে।

তবে সব টিউমারই ক্যান্সার নয়। যে টিউমার গুলো জীবন ধ্বংসকারী কেবলমাত্র তাদেরকেই ক্যান্সার বলা হয়ে থাকে। আর জীবনের জন্য হুমকি নয় এমন টিউমারকে বলা হয় বিনাইন (benign) টিউমার বা সাধারণ টিউমার।

ক্যান্সার কেন হয়?

বিভিন্ন ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফলে দেহের দ্রুত বর্ধনশীল কোষগুলো (যেমন: অস্থিমজ্জা, ত্বক)-এর ক্রোমোজমের গঠনে বিশেষ পরিবর্তন ঘটে। ফলে উৎপন্ন হয় ক্যান্সার কোষ। সাধারণভাবে দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এইসব পরিবর্তিত ক্যান্সার কোষগুলোকে বিশেষ নিয়মে ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু কোন কোষ যদি ধ্বংস হওয়া থেকে বেঁচে যায় তাহলে সেই কোষগুলোই তৈরী করতে থাকে টিউমার।

ক্যান্সারের সাধারণ কারনগুলো হচ্ছে:

১. বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক রাসায়নিক রঞ্জক পদার্থ, যেমন: বেনজিন, ন্যাপথালিন, বেনজাইল বেনজয়েট।

২. অতিবেগুণী রশ্মি, আয়নিত রশ্মি এবং এক্স রে।

৩. বিভিন্ন ক্যান্সার সংঘটনকারী অনুজীব, যেমন: হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস, হেপাটাইটিস সি ভাইরাস, হেলিকো ব্যাকটের পাইলোরি ব্যাকটেরিয়া।

৪. ধূমপান,

৫. এলকোহল সেবন,

৬. অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত এবং কম আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ অন্ত্রে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

৭. খাদ্যে ব্যবহৃত ফরমালিন (পচন রোধক পদার্থ) পাকস্থলীর ক্যান্সার করতে পারে।

৮. চুলের কলপ ত্বকের ক্যান্সার করে।

৯. এছাড়া বংশগত কারনেও ক্যান্সার হতে পারে।

 

ক্যান্সার নির্ণয়ে যে পরীক্ষাগুলো করা হয়ে থাকে:

ক্যান্সার যেকোন বয়সে হতে পারে। এই রোগের নির্দিষ্ট কোন বয়স নেই। তবে পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সে এই রোগর ঝুঁকি বাড়ে। ক্যান্সারের একটা খারাপ দিক হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চিকিৎসা না করলে তা রক্ত, লসিকা বা পার্শ্বীয় সংক্রমনের মাধ্যমে দেহের অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে যেতে পারে। একে মেটাস্ট্যাসিস বলে। তখন আর কিছু করার থাকে না। তাই দ্রুত পরীক্ষা-নীরিক্ষা এবং চিকিৎসা নেয়াটা জরুরী। ক্যান্সার নির্ণয়ের পরীক্ষাগুলো হচ্ছে-

১. FNAC (fine needle aspiration cytology): সূক্ষ্ম সুঁইয়ের মাধমে টিউমারের কিছু কোষ বের করে তার গঠন দেখা।

২. বায়োপসি (biopsy): আক্রান্ত অঞ্চলের অংশ বিশেষ কেটে আক্রান্ত দেহকলার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা।

৩. রক্ত পরীক্ষা।

৪. সিটি স্ক্যান (CT SCAN)

৫. এম আর আই (M.R.I.)

৬. এছাড়া দেহের বিভিন্ন এনজাইমের ঘনত্বের পরিবর্তন পরীক্ষা করেও ক্যান্সার রোগ নির্ণয় করা হয়ে থাকে ।

মনে রাখতে হবে, ক্যান্সার রোগের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয় খুবই জরুরী। এ জন্য চাই উপযুক্ত জ্ঞান ও সামাজিক সচেতনতা। তবেই এই মরণব্যাধিতে মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।