মা ও শিশু

গর্ভকালীন সময়ে যে খাবারগুলো খাওয়া জরুরি

ইন্টার্নি চিকিৎসক, কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতাল, সিএমএইচ, ঢাকা।

মেয়েদের জীবনে সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ সময় কোনটি? নিঃসন্দেহে গর্ভধারণের সময়, মা হওয়ার সময়। নিজের শরীরের ভেতর আরেকটি নতুন জীবনের অস্তিত্ব অনুভব করার যে আনন্দ, যে অনুভূতি তা কেবলমাত্র মায়ের পক্ষেই অনুধাবন করা সম্ভব। সুস্থ মা-ই পারে সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে। তাই গর্ভধারণের প্রথম থেকে প্রসব পরবর্তী সময় পর্যন্ত একজন মায়ের দরকার বিশেষ খাবার, বিশেষ যত্ন।

গর্ভবতী হওয়ার পর ৯ মাসে একজন মায়ের ওজন ১০ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত বাড়ে। এটাই স্বাভাবিক। গর্ভস্থ শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য মাকে দৈনিক ৩০০ ক্যালরি অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। এসময় কি খাবেন আর কি খাবেন না এই নিয়ে প্রায় সব মায়েরাই চিন্তিত থাকেন। চলুন জেনে নেই গর্ভাবস্থায় কোন খাবারগুলো খাওয়া জরুরি-

ক্যালসিয়াম

গর্ভস্থ শিশুর হাড়ের গঠন, মায়ের হাড় ক্ষয়রোধ ও উচ্চরক্তচাপ প্রতিরোধসহ ক্যালসিয়ামের রয়েছে নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। গর্ভাবস্থায় এবং প্রসব পরিবর্তী সময়ে মাকে দৈনিক ১০০০ মি.গ্রা. ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে। দুধ, ডিম, মাছ, পালং শাক, বাদামে প্রচুর ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা

কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা বলতে আমরা মূলত ভাত, রুটি বা আলুকে বুঝি। গর্ভাবস্থায় মা-কে সারাদিন ৩-৪ কাপ ভাত খেতে হবে। বাড়তি ক্যালরির চাহিদা পূরণে কর্মজীবি মায়েদের অবশ্য ৪-৫ কাপ ভাত খাওয়া আবশ্যক। ভাতের সাথে আলু এবং রুটিও খাওয়া যায়।

প্রোটিন বা আমিষ

গর্ভস্থ শিশুর শরীরে নতুন টিস্যু তৈরিতে সহায়তা করে আমিষ। গর্ভাবস্থায় মাকে দৈনিক অন্তত ৬০ গ্রাম আমিষ খেতে হবে। এই চাহিদা পূরণে রোজ ২-৩ টুকরা মাছ, ৩-৪ টুকরা মাংস এবং একটি ডিম খেতে হবে। তাছাড়া নিয়ম করে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ দুধও পান করতে হবে।

আরো পড়ুন  জরায়ুমুখ ক্যানসারের ৭টি প্রাথমিক লক্ষণ

ফ্যাট বা চর্বি

গর্ভাবস্থায় ফ্যাট বা চর্বিরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এ সময় ডায়েট করা মোটেই উচিৎ নয়। চর্বি জাতীয় খাদ্য শিশুর মস্তিষ্কের কোষ গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাই মাকে নিয়মিত চর্বিজাতীয় খাদ্যও খেতে হবে। দুধ, ঘি, মাখন চর্বির চাহিদা পূরণ করে।

আয়রন

গর্ভবতী মায়েদের জন্য আয়রন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। গর্ভের শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠার জন্য আয়রনের ভূমিকা অপরিসীম। আয়রন রক্তস্বল্পতাও প্রতিরোধ করে। মাকে রোজ ২৭ গ্রাম আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। ডিমের কুসুম, ডাল, কলিজা, মিষ্টি কুমরা, কচু শাক, কাঁচাকলা ও তরমুজ থেকে আয়রনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

ভিটামিন সি

শরীরে আয়রন শোষণ ও পরিপাকে ভিটামিন সি-এর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভাবস্থায় দৈনিক অন্তত ৭০ গ্রাম ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেতে হবে। এই চাহিদা পূরণে রোজ কমপক্ষে একটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খাওয়া উচিৎ। লেবু, কমলা, পেয়ারা, টমেটো থেকে প্রচুর ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

ফলিক এসিড

শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে ফলিক এসিডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভবতী মায়ের শরীরে প্রতিদিন ০.৪ গ্রাম ফলিক এসিড দরকার হয়। লেটুস, পালং ও কমলালেবুতে যথেষ্ট ফলিক এসিড থাকে।

পানি

গর্ভাবস্থায় মাকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এছাড়া অন্যান্য তরল জাতীয় খাবার যেমন স্যুপ, টাটকা ফলের রসও অনেক উপকারী।