স্বাস্থ্য

ডায়াবেটিসজনিত পায়ের রোগ: প্রতিকারের ১২টি উপায়

এমবিবিএস। ইন্টার্নি চিকিৎসক, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।

সারা দুনিয়াজুড়েই দিন দিন বাড়ছে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বর্তমানে দেশের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর এক-তৃতীয়াংশ ডায়াবেটিক রোগী।ডায়াবেটিস রোগীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগকে অবহেলা করেন। কিংবা সময়মত ডাক্তারের পরামর্শ নেন না। ফলে তারা ডায়াবেটিসজনিত নানা জটিলতার মুখোমুখি হন। এমনই এক সমস্যা হচ্ছে ডায়াবেটিসজনিত পায়ের রোগ। ডাক্তারি পরিভাষায় একে বলে, ‘ডায়াবেটিক ফুট ডিজিজ’।

কি হয় ডায়াবেটিক ফুট ডিজিজে?

ডায়াবেটিক ফুট ডিজিসের শুরুতে পায়ের পাতা থেকে গোড়ালির আশ-পাশ পর্যন্ত যেকোনো জায়গায় ক্ষত দেখা দেয়। সময়মত চিকিৎসা না করালে এই ক্ষত গ্যাংগ্রিনে রূপ নিতে পারে। অর্থাৎ এতে পঁচন ধরতে পারে। এই গ্যাংগ্রিন বা পঁচন শরীরের অন্য যেকোনো পঁচনের তুলনায় দ্রুত মাত্রায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কেন হয়?

খুব ছোট কোনো আঘাত, কাটা-ছেঁড়া বা নখের আঁচড় থেকেও এ রোগের শুরু হতে পারে যার। এরপর তা ভয়াবহ আলসার বা ক্ষততে পরিণত হতে পারে।এছাড়া ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ের চামড়া কাল হয়ে উঁচু হয়ে দানার মতন হয়ে থাকে। অনেকেই তা নিজে নিজে নখ, ব্লেড বা কাঁচি দিয়ে তুলে ফেলার চেষ্টা করে। এর মাধ্যমেও ক্ষত শুরু হতে পারে।

 

উপসর্গ:

– পায়ের অনুভূতি কমে যাওয়া

– পা ঝিমঝিম করা

– পা ব্যাথা করা (সাধারণত যে পর্যন্ত মোজা পরা হয় ততটুকু)

– বিশ্রাম নেবার সময়ও পায়ে ব্যথা অনুভূত হওয়া।

জটিলতা:

– একবার পায়ে আলসার হয়ে গেলে দীর্ঘদিন হাসপাতালে থেকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষত ড্রেসিং করা লাগে।

আরো পড়ুন  রমজানে ডায়াবেটিক রোগীদের ৬টি করণীয়

– অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছোট-খাটো সার্জারির প্রয়োজন হয়।

– কিছু ক্ষেত্রে আক্রান্ত অংশ (যেমন: আঙ্গুল, গোড়ালি বা পায়ের কিছু অংশ) কেটে ফেলা লাগতে পারে।

চিকিৎসা:

– ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।

– চিকিৎসকের পরামর্শ মত ইনসুলিন নেয়া।

– সার্জারি।

– প্রয়োজনে মেডিসিন ও সার্জারির চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করা।

প্রতিকার:

– প্রতিদিন নিয়ম করে তিন থেকে চারবার পা ধুয়ে নিন।

– পা শুকিয়ে গেলে বা ফেটে গেলে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম, ভেসেলিন বা লোশন ব্যাবহার করুন।

– পায়ের নখ কেটে ছোটো করে রাখুন।

– পায়ে যেন আঘাত না লাগে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

– মোজা পরিষ্কার রাখুন।

– বেশি টাইট বা বেশি ঢিলা জুতা পরবেন না।

– জুতা পরার আগে কোনো পিন বা আলপিনজাতীয় কিছু জুতায় আছে কিনা দেখে নিন।

– কাটা ক্ষত ছোট হলেও তা পরিষ্কার গজ দিয়ে ঢেকে রাখুন।

– নিজে নিজে ফোঁড়া গালাবেন না।

– ফার্মেসীতে গিয়ে কিংবা স্থানীয় ওষুধের দোকানে পায়ের কালো চামড়া তুলবেন না।

– গরম কিছু দিয়ে পায়ে সেঁক দেয়া বা ঠাণ্ডা বরফ পানিতে পা ভিজিয়ে রাখা থেকে বিরত থাকুন।

– নিয়মিত ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ বা নিকটস্থ ডায়াবেটিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে থাকুন।

 

অসাবধানতা ও অসচেতনতার কারনে ডায়াবেটিসজনিত পায়ের রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তবে সময়মত চিকিৎসা নিলে এবং শৃংখলাপূর্ণ জীবন-যাপন করলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব। তাই সাবধানে থাকুন, নিয়ম মানুন, সুস্থ থাকুন।