খাদ্য ও পুষ্টি

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করবে যে ৫টি খাবার

চিকিৎসক। মেডিকেল এক্সিকিউটিভ, হোয়াইট হর্স ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

ডায়াবেটিস রোগটি বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি জীবাণুঘটিত বা ছোঁয়াচে রোগ নয়। মানব দেহে অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস নামে একটি অঙ্গ থাকে। এই অঙ্গের প্রান্তীয় অংশে বিটা সেল নামক কিছু কোষ থাকে। এই কোষগুলো থেকে ইনসুলিন হরমোন নিঃসৃত হয়। শরীরে প্রয়োজনীয় ইনসুলিনের অভাবে কিংবা ইনসুলিনের কার্যকারিতা হ্রাস পেলে ডায়াবেটিস রোগ হয়। অতিরিক্ত মোটা ব্যক্তি যারা অধিক খাদ্য গ্রহণ করেন এবং যারা কম শারীরিক পরিশ্রম করেন তাদের এই রোগ হবার সম্ভাবনা বেশী। ডায়াবেটিস কোনও নিরাময় যোগ্য রোগ নয়। তবে এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তাই এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণে রাখাই সর্বোত্তম পস্থা। এ জন্য প্রয়োজন কঠোর নিয়মানুবর্তিতা। পাশাপাশি কিছু খাবারও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়তা করে। চলুন এমন কয়েকটি খাবারের কথা জেনে নেই-

১. সবুজ শাক-সবজি

সবুজ শাক-সবজি সাধারণত ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। পালং শাক, শালগম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লেটুস পাতা ইত্যাদি খাবারে ক্যালরি ও কার্বোহাইড্রেট (শর্করা)-এর পরিমাণ কম। ফলে এগুলো ডায়াবেটিস ঠেকাতে ভালো ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সবুজ শাক-সবজি খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

২. মাছ

মাছের ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়ায়। ফলে ইনসুলিনের ক্রিয়াশীলতা বাড়ে। এটা গ্লুকোজের ঘনত্ব কমিয়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস করে। এছাড়া এতে রয়েছে চর্বিহীন প্রোটিন। এটাও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

৩. টক দই

টক দই এমনিতেই স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসাবে বিবেচিত। এতে চিনির পরিমাণ খুবই কম। এটা রক্তে চিনির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। দুপুরে খাবারের পর কিংবা বিকালে নাস্তার সাথে টক দই খাওয়া যায়। নিয়মিত টক দই খেলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

৪. বাদাম

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাদাম ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বেশ কার্যকর। চিনাবাদাম ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ২১ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ১ আউন্স আখরোট বা কাজুবাদাম রাখলে তা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ভালো কাজ দেয়। এছাড়া নিয়মিত বাদাম খেলে ডায়াবেটিসজনিত হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে।

৫. গ্রিন টি বা সবুজ চা

গ্রিন টি বা সবুজ চা ইদানিং বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও এর ভূমিকা বেশ কার্যকর। এটা মানুষের শরীরে ইনসুলিনের মতো কাজ করে। অতিরিক্ত ওজন কমাতেও গ্রিন টি বেশ উপকারী।