লাইফস্টাইল

নতুন বছরে জীবন বদলে দিবে যে ১০টি অভ্যাস

এমবিবিএস, বিসিএস, এফসিপিএস (২য় পর্ব)। মেডিকেল অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, লাখাই, হবিগঞ্জ।

সময়ের পরিক্রমায় চলে এল নতুন আরেকটি বছর। আগের বছরটি যেমনই কাটুক না কেন নতুন বছরটি সুন্দর হোক, ভালো কাটুক এটা সবারই প্রত্যাশা থাকে। বিশেষ করে নতুন বছরে সুস্বাস্থ্য সবারই কাম্য। বছর জুড়ে সুস্থ জীবনের জন্য চাইলেই আপনি কয়েকটি অভ্যাস রপ্ত করে নিতে পারেন। বছরের শুরু থেকেই এই অভ্যাসগুলো চর্চা করলে আপনার জীবন হয়ে উঠবে সুন্দর, স্বাস্থ্যকর ও গতিময়। কমে যাবে জটিল রোগের ঝুঁকি। চলুন জেনে নেই নতুন বছরের স্বাস্থ্যকর ১০টি অভ্যাস-

১) নতুন বছরে খাদ্যাভ্যাসে সংযত হোন, ওজন কমান। জীবন হবে গতিময়। মনে রাখবেন শুধুমাত্র ওজন কমিয়েই আপনি নিশ্চিন্তে বেশ কিছু জটিল রোগের প্রকোপ থেকে বেঁচে থাকতে পারেন।

২) মনে রাখবেন, ধূমপান মৃত্যুর কারন। এই বছরে প্রতিদিন একটু একটু করে ধূমপান পরিত্যাগ করুন। ধূমপান ত্যাগ করতে আপনার সিদ্ধান্তই যথেষ্ট।

৩) রাতে ঠিকমত ঘুম না হলে মানসিক চাপ বাড়ে। দিনের বেলায় কাজ-কর্মে গতি পাওয়া যায় না। বরং একধরনের নির্লিপ্ততা কাজ করে। মানসিক সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা অটুট রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং অন্ততপক্ষে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

৪) বছরের প্রথম থেকেই ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠুন, প্রার্থনা করুন এবং কিছুক্ষণ হাঁটার অভ্যাস করুন। এই অভ্যাসগুলো আপনার জীবনধারাকেই বদলে দিবে।

৫)  নিয়মিত ব্যায়াম করুন। প্রতিদিন ব্যায়াম করার দরকার নেই। সপ্তাহে তিনদিন বা চারদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে ব্যায়াম করুন।

৬) বই হোক আপনার নতুন বছরের সঙ্গী। রাতে ঘুমানোর আগে দশ মিনিট বই পড়ুন। এতে ঘুম ভালো হবে, সচল থাকবে আপনার মস্তিষ্ক।

৭) আধুনিক জীবনের কর্মব্যস্ততার কারনে অনেকেই হয়ত পরিবারকে ঠিকমত সময় দিতে পারেন না। জীবন হয়ে উঠে একঘেঁয়ে ও যান্ত্রিক। এগুলো থেকে মুক্তি পেতে বছরের শুরুতেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দূরে কোথাও বেড়িয়ে আসতে পারেন। সারা বছরের কর্মচাঞ্চল্য সঞ্চয় হবার পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধনও দৃঢ় হবে এতে।

৮) কম্পিউটার ও স্মার্ট ফোনের ব্যবহার কমিয়ে আনুন। যান্ত্রিক ব্যস্ততা এড়িয়ে একান্ত কিছু সময় নিজের জন্য রাখুন। নিজের মত করে কিছু সময় উপভোগ করুন। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

৯) সব সময় পানির বোতল সাথে রাখুন। সুস্থ থাকতে প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করুন।

১০) সর্বোপরি হাসুন, ভালোবাসুন ও খোশ-গল্পে মেতে উঠুন। দূর করুন একাকীত্ব, ক্লান্তি, ডিপ্রেশন।