স্বাস্থ্য

পাইলসের ১০টি কারন ও লক্ষণসমূহ

এমবিবিএস (৫ম বর্ষ), স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ।

আধুনিক জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ায় বেশ কিছু রোগের প্রকোপ বাড়ছে। অর্শ-গেজ বা পাইলস তার মধ্যে অন্যতম। এ কারনে পাইলসকে অনেকে “আধুনিক সভ্যতার রোগ” বলে অভিহিত করে থাকেন। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে হেমোরয়েডস। মলাশয়ের নিম্নাংশ বা মলদ্বারের শিরা যখন পেঁচিয়ে যায়, ফুলে ওঠে এবং প্রসারিত হয় তখনই তাকে পাইলস বা হেমোরয়েডস বলে। এটা মলদ্বারের ভেতরে বা বাইরে দুই দিকেই হতে পারে।

পাইলসের কারন:

১. বংশতগত (রক্তনালীর দূর্বলতা)

২. দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া

৩. শাক-সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া

৪. পানি কম খাওয়া

৫. স্থূলতা (অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার ও ফাস্টফুড গ্রহণ)

৬. পায়ুপথের ক্যান্সার

৭. বার্ধক্যজনিত কারন

৮. অনেক সময় ধরে বসে থাকার অভ্যাস

৯. ভার উত্তোলন বা বেশি ওজন বহন করা

১০. গর্ভাবস্থায়ও পাইলস হতে পারে।

পাইলসের লক্ষণ:

– মলদ্বারের বাইরের পাইলস: মলদ্বারের বাইরে পাইলস হলে সাধারণত সাধারণত রক্ত পড়ে না এবং তেমন কোন ব্যথাও অনুভূত হয় না। এটা চামড়া দিয়ে ঢাকা থাকে এবং হাত দিয়ে অনুভব করা যায়।

– আভ্যন্তরীন পাইলস: আভ্যন্তরীণ পাইলসকে আবার কয়েকটি গ্রেডে ভাগ করা হয়।

আরো পড়ুন  যে পাঁচটি লক্ষণ দেখে স্ট্রোক চিনবেন

১. গ্রেড ১ : এক্ষেত্রে রক্তপাত হয়। কিন্তু পাইলস মলদ্বার দিয়ে বের হয়ে    আসে না।

২. গ্রেড ২ : ব্যথাবিহীন রক্তপাত হয়। সাথে হালকা চুলকানি থাকে। পাইলস বের হয়ে আসে। তবে তা আপনা আপনিই ভেতরে ঢুকে করে যায়।

৩. গ্রেড ৩ : মলত্যাগের সময় ব্যথা ও রক্তপাত হয়। আক্রান্ত স্থানে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া থাকে। পাইলস বের হয়ে আসলে তা হাত দিয়ে ঠেলে ভেতরে ঢুকানো যায়।

৪. গ্রেড ৪ : পাইলস স্থায়ীভাবে বাইরে বের হয়ে থাকে। সাথে উপরে উল্লেখিত অন্যান্য সমস্যাগুলোও থাকতে পারে।