খাদ্য ও পুষ্টি

বার্ধক্যের সময় যা খাওয়া জরুরি

বি.এস.সি (অনার্স) পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি, মাস্টার্স ইন পাবলিক হেলথ (অধ্যায়নরত)।

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের দেহের পুষ্টি চাহিদার পরিবর্তন ঘটে। এ সময় সাধারণত যত্ন-আত্তি কমে যায়। অনেকে অবহেলারও শিকার হন। অথচ এ সময়েই বাড়তি পুষ্টির ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া উচিত। চলুন বুড়ো বয়সে ভিটামিন, মিনারেল, তরল বা ফ্লুইড ও আঁশ জাতীয় খাবারের চাহিদা নিয়ে জেনে নেই-

ভিটামিনঃ

বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে ফ্যাট বা চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন সঞ্চয়ের ক্ষমতা কমে যায়। সাধারণত এসব ভিটামিন, বিশেষ করে ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-ডি খুব সহজেই খাবারের সাথে পাওয়া যায়। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে খাবারের মাধ্যমে অপর্যাপ্ত ফ্যাট গ্রহণ, অপর্যাপ্ত পিত্তরস ক্ষরণ, অপর্যাপ্ত অগ্ন্যাশয় রস নিঃসরণ এবং অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়েটিক খাবার কারনে ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলোর শোষণ ও সংরক্ষণ ক্ষমতা নষ্ট হতে থাকে। যদি খাবারের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ না হয়, তবে সাপ্লিমেন্টের ব্যাবস্থা করতে হবে। বয়স্ক লোকদের ভিটামিন বি-১, বি-৬, বি-৮ ও বি-১২ এর সাপ্লিমেন্টের ব্যাবস্থা করতে হবে। কারন শেষ বয়সে তাদের খাবারের পরিমান কমে যায়। ফলে খাবারের মাধ্যমে ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হয় না। তবে নিয়মিত ফলমূল ও শাকসবজি খেলে বুড়ো বয়সে ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়।

মিনারেলঃ

বৃদ্ধ বয়সে আয়রন ও ক্যালসিয়ামের ব্যাপারে বিশেষ মনযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে নারীদের জন্য এই দুইটি উপাদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন আগে থেকেই তাদের দেহে এসবের ঘাটতি থাকতে পারে। মাসিক বন্ধ হবার আগে স্বাভাবিকভাবেই একজন নারীর আয়রনের চাহিদা পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। কিন্তু মেনোপোজের পরে তা কমে পুরুষের সমান হয়ে যায়। বয়সের সাথে সাথে শরীরে ক্যালসিয়ামের শোষণ ক্ষমতা কমতে থাকে। এতে করে অস্টিওপোরসিস হতে পারে ও হাড়ের কাঠিন্যতা হ্রাস পায়। ফলে খুব সহজে হাড় ভেঙ্গে যেতে পারে। মুখের টিস্যু সবল রাখতেও ক্যালসিয়ামের ভুমিকা অপরিহার্য। বৃদ্ধ বয়সে তাই পর্যাপ্ত আয়রন ও ক্যালসিয়াম খেতে হবে।

আরো পড়ুন  পেয়ারার ৭টি পুষ্টিগুণ

ফ্লুইড বা তরল জাতীয় খাবারঃ

একজন পুর্ণবয়স্ক ব্যক্তির কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি, জুস বা অন্যান্য তরল জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। দৈনিক মূত্র উৎপাদনের হার ঠিক রাখতে এই পরিমাণ তরল গ্রহণ করা জরুরি। বৃদ্ধ বয়সে সাধারণত পানি ও তরল জাতীয় খাবার গ্রহণের হার কমে যায়। শরীরের যত্নে তাই বৃদ্ধ বয়সে পানি ও তরল খাবার গ্রহণের ব্যাপারে বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত।

ফাইবার বা আঁশ জাতীয় খাবারঃ

বয়োবৃদ্ধদের আঁশ জাতীয় খাদ্য গ্রহনের বিধি স্বাভাবিক মানুষের মতই। তবে এই বয়সে বিশেষভাবে ফলমূল, শাকসবজি, ডাল জাতীয় খাদ্য ও ঢেকি ছাঁটা চালের ভাত গ্রহনের উপর জোর দেয়া উচিত। এ সকল আঁশ জাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। তাছাড়া আঁশ জাতীয় খাবার রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে।