স্বাস্থ্য

বাড়তি ওজনের কারনে যত স্বাস্থ্য সমস্যা

অধ্যাপক ও ডিন, মেডিসিন অনুষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন স্বাস্থ্যের জন্য নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ। বাড়তি ওজন মানেই শরীরে মেদের আধিক্য। ফলাফল হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বি জমা ইত্যাদি। বাড়তি ওজনের এই কুফলগুলো কারোই অজানা নয়। তাই বর্তমান সময়ে এসব প্রাণঘাতী রোগের প্রকোপ ও ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকরা সঠিক ওজন বজায় রাখার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এসব সমসস্যা ছাড়াও ওজনাধিক্যের সঙ্গে আরও নানা রকম ছোট-বড় সমস্যা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। সেগুলো নিয়ে কখনোই বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয় না। আসুন, জেনে নিই বাড়তি ওজনের কারণে আমাদের আরও কি কি স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে।
১. অস্টিওআথ্রাইটিস বা বাতের প্রধানতম কারন হলো ওজনাধিক্য। অতিরিক্ত ওজন বহন করার কারনে মূলত হাঁটু, কোমর বা মেরুদণ্ডে সমস্যা দেখা দেয়। কখনো মেরুদণ্ডে হাড় বিচ্যুত হয়ে স্নায়ুকে চাপ দেয়। এ কারণে এমনকি শল্য চিকিৎসারও প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া স্থূল শরীরে গেঁটে বাত বা গাউট, রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি, কবজির স্নায়ুতে চাপ পড়ার কারণে কার্পাল টানেল সিনড্রোম ইত্যাদি সমস্যাও বেশি হয়ে থাকে।
২. ওজন বাড়লে পেটের পেশির সংকোচন-প্রসারণ দুর্বল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় হার্নিয়ার ঝুঁকি বেশি। ওজন বেশি থাকলে কোনো অস্ত্রোপচারের পর সেই সেলাইয়ের জায়গাতেও সহজে হার্নিয়া হয়ে যেতে পারে।
৩. পায়ের শিরা ফুলে নীল হয়ে ওঠার অপর নাম ভেরিকোস ভেইন। এটি বাড়তি ওজনের ব্যক্তিদের বেশি হয়।
৪. বেশি ওজনের ব্যক্তিদের পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে চল্লিশোর্ধ স্থূল নারীদেরেএ সমস্যাটি বেশি হয়ে থাকে। এ ছাড়া পেটের খাদ্য খাদ্যনালীতে উঠে আসা বা রিফ্লাক্সের কারনও কিন্তু ওজনাধিক্য। লিভার বা যকৃতে চর্বি জমা যা ফ্যাটি লিভার নামে পরিচিত তাও ওজনাধিক্যজনিত সমস্যা। এমনকি গবেষণায় দেখা গেছে, অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও স্থূলতা দায়ী।
৫. স্থূলতায় আক্রান্তদের ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ সাধারণ লোকদের তুলনায় বেশি হয়। আবারে একবার ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলে, স্থূল ব্যক্তিদের ডায়াবেটিসজনিত জটিলতাগুলোও বেশি মাত্রায় দেখা দেয়।
৬. স্থূল শরীরের ব্যক্তিরা বেশি নাক ডাকে। রাতের বেলা ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসা বা স্লিপ এপনিয়ার প্রধান কারন স্থূলতা। এ ছাড়া সামান্য পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়াও বাড়তি ওজনের সমস্যা।
৭. জরায়ুতে সিস্ট ও উর্বরতা হ্রাসের কারন হিসেবে স্থূলতা দায়ী। এ ছাড়া স্তন ক্যানসার ও ডিম্বাশয় ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গেও স্থূলতার সম্পর্ক রয়েছে।
৮. ত্বকের নানা সমস্যা যেমন: ত্বকের রং কালো হয়ে যাওয়া বা অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিক্যানস, কুঁচকির ত্বকে সংক্রমণ যেমন: ক্যানডিডা সংক্রমণ এবং লসিকানালিতে পানি জমা—এসব স্থূল শরীরের ব্যক্তিদেরই বেশি হয়ে থাকে।
৯. স্থূলতার সঙ্গে মানসিক সমস্যারও সম্পর্ক প্রমাণিত হয়েছে। বিষণ্নতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব বা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া ইত্যাদির সাথে স্থূলতার সম্পর্ক আছে বলে চিহ্নিত হয়েছে।