লাইফস্টাইল

বিয়ের আগে দাঁতের যত্ন : জেনে নিন সুন্দর হাসির রহস্য

রেসিডেন্ট (অর্থোডেন্টিকস), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

সময়টা অটোগ্রাফের নয়, ফটোগ্রাফের। বিয়ের পাত্র-পাত্রী খুঁজতে গিয়ে মুখাবয়বের গুরুত্ব তাই কম নয়। তবে মুখশ্রী যত সুন্দর হোক না কেন, হাসতে বা কথা বলতে গিয়ে যদি দেখা যায় বর বা কনের দাঁত ভাঙ্গা, দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা ফাঁকা কিংবা দাঁতে কালচে দাগ তবে উভয়ের পছন্দেই ভাটা পড়বে নিশ্চিত। তাছাড়া বিয়ের পরে ফেসবুকে দেয়া প্রোফাইল পিকচারের হাসিটি যদি হয় হলদেটে দাঁতওয়ালা তবে কেমন হবে বিষয়টা ভাবুন তো? প্রিয়তমের সাথে প্রথম আলাপেই যদি ছড়িয়ে পড়ে মুখের দুর্গন্ধ তবে তা আর যাই হোক সুখকর নয় নিশ্চয়ই! আর তাই বিয়ের আগেই বর-কনের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মুখের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করাটাও জরুরি।

বিয়ের আগে ছেলেদের ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো দেখা যায়-

১. ধূমপানের কারনে দাঁতে কালচে দাগ পড়া,
২. অতিরিক্ত চা ও কফিপানের কারনেও দাঁতে কালচে দাগ দেখা যায়,
৩. মুখে দুর্গন্ধ থাকা,
৪. দাঁতে পাথর জমা,
৫. অনেকের দাঁতে পান বা জর্দার দাগ থাকা,
৬. ভাঙা দাঁতের উপস্থিতি,
৭. দাঁতে ক্যারিজ থাকা,
৮. দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া।

কনের বেলায় যে সমস্যাগুলো থাকতে পারে-

১. মাড়িতে লালচে ও ফোলাভাব,
২. মুখে দুর্গন্ধ,
৩. আঁকাবাঁকা ও ফাঁকা ফাঁকা দাঁত,
৪. দাঁতের রং বিবর্ণ হয়ে  যাওয়া,
৫. ভাঙ্গা দাঁত থাকা।

তবে ভয়ের কিছু নেই। সমস্যা যেমন আছে, তার প্রতিকারও রয়েছে। সুস্থ ও স্বাভাবিক দাঁতের জন্য বিয়ের আগেই নিচের অভ্যাসগুলো রপ্ত করতে হবে-

১. ধূমপানসহ অতিরিক্ত চা-কফি পানের ফলে দাঁতে কালচে দাগের সৃষ্টি হয়। এ অভ্যাসগুলো পরিত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি স্কেলিং, স্টোন রিমুভিং ও পলিশিংয়ের মাধ্যমে অবাঞ্ছিত দাঁতের দাগ দূর করতে হবে।২. মুখে নানা কারনে দুর্গন্ধ হতে পারে। যেমন-

ক. বেশি মসলাদার খাবার, কাঁচা পেঁয়াজ বা রসুন খেলে,
খ. বহুদিন যাবত দাঁতে পাথর জমলে,
গ. দাঁতের মাড়িতে ইনফেকশন বা জীবাণুর সংক্রমণ থাকলে,
ঘ. দীর্ঘদিন যাবত ফুসফুসে ইনফেকশন থাকলে,
ঙ. সাইনোসাইটিস থাকলে,
চ. দাঁতে ক্যারিজ থাকলে,
ছ. মুখে আলসার থাকলে,
জ. মুখের ভিতরে ফাংগাস বা ছত্রাকের সংক্রমণ হলে।

এই ধরনের কোন সমস্যা থাকলে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শমত চিকিৎসা নিতে হবে।

আরো পড়ুন  অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হ্রাস প্রতিরোধে ৫টি করণীয়

৩. দাঁতে পাথর জমলে অবশ্যই স্কেলিং পলিশিং করিয়ে নিতে হবে।

৪. দাঁতে পান বা জর্দার দাগসহ কঠিন কোনো দাগ থাকলে ব্লিচিং করিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

৫. মুখের ভাঙা বা ফেটে যাওয়া দাঁত থাকলে ক্যাপ বা ক্রাউন করে নিলে হারানো সৌন্দর্য পুরোপুরি ফিরে পাওয়া সম্ভব।

৬. চোয়ালে কোথাও দাঁত না থাকলে ব্রিজের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করে নিতে হবে।

৭. দাঁতে ক্যারিজ থাকলে তার অবস্থান, বিস্তৃতি ও রোগের ইতিহাস জেনে, দরকার হলে এক্স-রে করে ফিলিং বা রুট ক্যানেল ক্যাপ করে নিতে হবে।

৮. দাঁতের মাড়িতে কোন সমস্যা থাকলে অবহেলা না করে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৯. আঁকাবাঁকা এবং ফাঁকা দাঁত থাকলে চিকিৎসা করাতে হবে। একটু ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হলেও বিয়ের আগেই তা করানো উচিত। বিয়ের কমপক্ষে এক থেকে দেড় বছর আগে থেকে এই চিকিৎসা শুরু করা উচিত।

১০. দিনে তিন-চারবার দাঁত ব্রাশ করার পরও অনেকের দাঁত বিবর্ণ থেকে যায়। মূলত জন্মগত, আঘাতজনিত বা ওষুধের প্রতিক্রিয়াতেও দাঁত বিবর্ণ হতে পারে। বিবর্ণ হওয়ার কারন নিশ্চিত হয়ে ফিলিং, ক্রাউন ইত্যাদি চিকিৎসা করা যায়। এছাড়া দাঁতে ব্লিচ করা যেতে পারে। এতে দাঁত আরো ঝকঝকে, সুন্দর ও সাদা হয়।

১১. দাঁতে ব্যথা থাকলে ব্যথার কারন খুঁজে যথাযথ চিকিৎসা করাতে হবে।

১২. এছাড়া হেপাটাইটিস, এইডস ইত্যাদি পরীক্ষা করে নেওয়া যেতে পারে।

স্বাস্থ্যই সকল সুখের  মূল। একে পরিপূর্ণ রাখতে দাঁত ও মাড়ির সুস্থতার দিকেও নজর দিতে হবে। বিয়ের আগে হবু দম্পতির শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মুখের সুস্থতাও অত্যন্ত জরুরি। মুখের যেকোন সমস্যায় যথাযথ চিকিৎসার জন্য অবশ্যই অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নিতে হবে। তাছাড়া বছরে অন্তত দুবার ডেন্টাল সার্জনের শরণাপন্ন হোন।

ক.দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আরও কিছু করণীয়:

খ.দিনে অন্তত ২ বার দাঁত ব্রাশ করুন,

গ.নিয়মিত ফ্লসিং (flossing) করুন,

ঘ.সতেজ নিশ্বাসের জন্য ব্যহার করুন অ্যালকোহল মুক্ত মাউথওয়াশ,

ঙ. জরুরি মুহূর্তে ব্যবহার করতে পারেন sugar-free breath mint,

চ. নিয়মিত জিহ্বা পরিষ্কার করুন।