স্বাস্থ্য

বুকে ব্যথা হলে গ্যাসের সমস্যা ভেবে অবহেলা নয়

রেসিডেন্ট (শিশু সার্জারী), সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, সিলেট।

মাঝ বয়সী এক ভদ্রলোক এলেন হাসপাতালের জরুরী বিভাগে। বয়স ৪০ এর বেশী নয়। অভিযোগ হচ্ছে, কেমন যেন খারাপ লাগছে তার। সকালবেলা থেকেই বুক জ্বালাপোড়া ছিলো, সাথে হালকা চিনিচিনে কামড়ধরা ব্যথা। গ্যাসের বড়ি খেয়েছেন দুইটা। এন্টাসিড সিরাপও খেয়েছেন পল্লী চিকিৎসকের পরামর্শমত। স্বাভাবিকভাবে বাকি সবার মতো ‘গ্যাসের সমস্যা’ই মনে করেছিলেন তিনি। সেই অনুযায়ী চিকিৎসাও নিয়েছেন। হাসপাতালে যখন এলেন তখন অবস্থা বেশ বেগতিক। আর সহ্য করতে পারছেন না। হাসপাতালের জরুরী বিভাগেই অতি দ্রুত ইসিজি করা হলো। দেখা গেল, গ্যাসের ব্যথা নয়, তা ছিল হার্ট অ্যাটাক।

মেডিকেল সায়েন্স বা ডাক্তারির ভাষায়ি একে বলে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা এম.আই.। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার কারনে হয়তো তিনি প্রাণে রক্ষা পেলেন। কিন্তু অবস্থা আরো খারাপও হতে পারত। বুকে ব্যথা, বুক জ্বালাপোড়া, অস্থির লাগা, সাথে শরীর ঘেমে যাওয়া, মাথা ঝিম ঝিম করা –সব কিছুকেই আমরা গ্যাসের সমস্যা ভাবতে ভালোবাসি। হাতের কাছেই গ্যাসের ওষুধ থাকে বলে আমরা এমনকি ডাক্তারের কাছেও যাই না। খুব বেশী প্রয়োজনে হলে ফার্মেসীওয়ালার কাছে যাই। স্বাভাবিকভাবেই হার্ট অ্যাটাক ডায়াগনোসিস করার জ্ঞানটা তাদের কাছে অপ্রতুল। বিনিময়ে হতভাগ্য ব্যক্তিটির প্রাণের মাশুল গুণতে হয়। কাঁদতে হয় আরো একটি পরিবারকে।

আমাদের এখানে ডাক্তার না হয়েই ডাক্তারি চর্চা করার নজির বেশ পুরানো। বুকের ব্যথা হলেই এদের তরফে গ্যাসের সমস্যা বলার প্রবণতা আছে। কিছু হলেই এরা গ্যাসের বড়ি গছিয়ে দেয়। অথচ যেকোন ধরনের বুকে ব্যাথা বা বুক জ্বালাপোড়া কিংবা অস্থির বা অস্বস্তি লাগাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। বুকে ব্যথার সাথে উপরে বর্ণিত উপসর্গগুলো অনুভূত হলে দ্রুত নিকটস্থ ডাক্তারের কাছে কিংবা হাসপাতালে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, এক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র দেরী করার মূল্য অনেক বেশি দিতে হতে পারে।

হার্ট অ্যাটাক বা এম.আই. এর সময় হৃদপিন্ডের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম রক্তনালিকায় রক্তপ্রবাহে বাধা পড়ে। মূহুর্তেই মৃত্যু ঘটে আক্রান্ত ব্যক্তির। তবে লক্ষণ প্রকাশ পায় বেশ আগেই। লক্ষণ প্রকাশের সাথে সাথেই নিজে ডাক্তারি না করে ডাক্তারের কাছে এলে লোডিং ডোজ ও অন্যান্য প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে সেই অসুস্থ রক্তনালিকে কিছুক্ষণের জন্য সচল বা অর্ধসচল করা যায়।

কিন্তু সময় এখানে মুখ্য অস্ত্র। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এখন অনেক যুবক তরুণদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাক হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। আগে বলা হতো, ৩০ বছর বয়সের আগে কারো হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বলার আগে অন্তত ৩০ বার ভাবতে হবে। এখন আর সেদিন নেই। প্রবীণদের মত তরুণ প্রজন্মও এখন হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছে। তাই যেকোন ধরনের বুকে ব্যথায় গ্যাসের বড়ি না খেয়ে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যান। কারন সত্যি সত্যি তা যদি গ্যাসের সমস্যা না হয়ে হার্টের রোগ হয় তবে তা আপনাকে খুব একটা সময় নাও দিতে পারে। মনে রাখবেন, হৃদরোগ না ডাক্তারকে চিকিৎসা করার সময় দেয়, না রোগীকে বাঁচায়।