স্বাস্থ্য

বুক ধড়ফড় করার ৮টি কারন ও করণীয়

সহকারী রেজিস্ট্রার, লিভার রোগ বিভাগ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী।

বুক  ধড়ফড় করা কোন রোগ নয়। রোগের উপসর্গ। আমাদের দেশে এ সমস্যা প্রচুর দেখতে পাওয়া যায়। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। বুক ধড়ফড় করলে সবাই ভয় পেয়ে যান। এই বুঝি প্রাণটা গেল। কিন্তু সবসময় যে জটিল কোন রোগের কারনে বুক ধড়ফড় করে তা নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ কিছু কারনে বুক ধড়ফড় হয়।

বুক ধড়ফড় আক্রান্ত রোগী এ সমস্যার বিভিন্ন রকম বর্ণনা দেন। অর্থাৎ বুক ধড়ফড় আক্রান্ত রোগীরা বিভিন্নভাবে তাদের সমস্যা চিকিৎসকের কাছে উপস্থাপণ করেন। কেউ শ্বাসকষ্টের কথা বলেন। কেউ বুকে ব্যথার কথাও বলেন। তাই চিকিৎসককে প্রথমেই সমস্যাটি ভালোভাবে বুঝে নিতে হয়।

আরো পড়ুন  হৃদরোগ প্রতিরোধে কি খাবেন: ২০টি পরামর্শ

বুক ধড়ফড় করার কারন:

১. বুক ধড়ফড় করার সবচেয়ে প্রধান কারন দুশ্চিন্তা।

২. রক্তস্বল্পতা থাকলেও বুক ধড়ফড় করে।

৩. অনেক সময় গর্ভাবস্থায় এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৪. কারো থাইরোটক্সিকোসিস (দেহে অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য সৃষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা) থাকলে বুক ধড়ফড় করে।

৫. আমাদের হৃৎপিন্ডে বিভিন্ন ভালব থাকে। ভালবগুলো একমুখী রক্ত প্রবাহ নিশ্চিত করে। এই ভালবে সমস্যার কারনেও বুক ধড়্ফড়্ করে।

৬. হৃৎপিন্ডের বিভিন্ন জটিল রোগ (যেমন: AF, SVT, VT প্রভৃতি) থাকলে বুক ধড়ফড় করতে দেখা যায়।

৭. এছাড়া হৃৎপিন্ডের অলিন্দ এবং নিলয়ে যদি অতিরিক্ত সংকোচন হয় তবে মাঝে মাঝে খুব অল্প সময়ের জন্য বুক ধড়্ফড়্ হতে পারে। যারা অ্যালকোহল গ্রহণ করেন এবং ধূমপান করেন তাদের এমন বেশি হয়।

৮. অতিরিক্ত মানসিক চাপে ভুগলেও হৃৎপিন্ডের অতিরিক্ত সংকোচন হয় এবং এতে বুক ধড়ফড় হতে পারে।

বুক ধড়ফড়-এর পেছনে ঠিক কি কারন লুকিয়ে আছে তা অভিজ্ঞ চিকিৎসক সহজেই বের করতে পারেন। একজন দক্ষ চিকিৎসক রোগীর ইতিহাস জেনে এবং শারীরিক পরীক্ষা করে উপরোক্ত রোগগুলো নির্ণয় করতে পারেন। তবে অনেক সময় নিশ্চিত হবার জন্য এক্সরে, ইসিজি, ইকো-কার্ডিওগ্রাম, এনজিওগ্রাম, ইটিটি টেস্ট এবং রক্তের কিছু পরীক্ষা করার দরকার হয়।

বুক ধড়ফড় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বড় কোন কারনে হয় না। তাই ঘাবড়ানোর কিছু নেই। তবে যেহেতু হৃৎপিন্ডের জটিল কিছু রোগের কারনে এমনটি হতে পারে, তাই বুক ধড়ফড় করলে অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিত এবং কারন খুঁজে চিকিৎসা করা উচিত। তা না হলে অকালেই ঝরে যেতে পারে অমূল্য প্রাণ।