খাদ্য ও পুষ্টি

মিষ্টি খাবার খেয়েও নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়াবেটিস ও ওজন

বর্তমান সময়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়াবেটিস রোগ। আমাদের দেশে প্রতি ১০ জন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে ১ জন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ডায়াবেটিস সহ আরো অনেক জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারন স্থূলতা বা অতিরিক্ত মেদ। বাংলাদেশে প্রতি ৫ জনে ১ জন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির বাড়তি মেদ রয়েছে । ডায়াবেটিস ও অতিরিক্ত মেদ জনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিগণ চিকিৎসকের পরামর্শে এবং স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিগণ নিজ দায়িত্বে চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলেন। কেননা যেকোন মিষ্টিজাতীয় খাবারই ডায়াবেটিস রোগী ও মেদবহুল শরীরের জন্য অনিরাপদ। মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলার এ অভ্যাস তাই নিশ্চিতভাবে বাড়তি ক্যালরি থেকে নিরাপদ রাখে, মুটিয়ে যাওয়া রোধ করে। আর এ কারনে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাও থাকে নিয়ন্ত্রিত।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের রসনা বিলাসে মিষ্টির অবস্থান বেশ শক্তিশালী। ফলে চিনিমুক্ত জীবন কিন্তু অনেকটাই শেকলবাঁধা, খাঁচাবদ্ধ ঠেকে। এ কারনে মিষ্টি খাবার এড়াতে বললে আমরা প্রায় সবাই পায়েস-সেমাই, রসগোল্লা-রসমালাই থেকে শুরু করে চা-কফির মিষ্টতা পর্যন্ত মিস করি। উৎসবের আয়োজনে আমাদের ভেতরে দ্বন্দ্ব চলে, কি যেন নেই। পর্যাপ্ত খেয়েও পরিতৃপ্তি মিলে না।

আরো পড়ুন  স্বাস্থ্য রক্ষায় মূলার ১০টি গুণ

তবে আশার কথা হলো, আপনার রসনা বিলাসে কিন্তু আবার ফিরে আসতে পারে মিষ্টি খাবার। ডায়াবেটিস বা অতিরিক্ত মেদ যাতেই আক্রান্ত হন না কেন, আপনার জীবনেও থাকতে পারে মিষ্টতা। কারন বিশ্বব্যাপী বহুল প্রচলিত বিকল্প চিনি এখন হাতের নাগালেই পাওয়া যাচ্ছে। সুক্রোলোজ দিয়ে এ চিনি তৈরী করা হয়। এটি ক্যালরিমুক্তি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক অনুমোদিত। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ। এটি রক্তে শোষিত হয় না। তাই রক্তের সুগার বা গ্লুকোজের মাত্রায়ও তা কোন প্রভাব ফেলে না। সুক্রোলোজ গর্ভবতী মায়েদের জন্যও সম্পূর্ণ নিরাপদ। তাছাড়া অন্যান্য ওষুধের সাথে গ্রহণ করলে এটি কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া করেনা।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দৈনিক ২৫০ ক্যালরি কম গ্রহণ করে বছরে ১১ কেজি পর্যন্ত ওজন কমানো সম্ভব। চিনির বদলে সুক্রোলোজ গ্রহণ করে তাই সহজেই ওহন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই এখন থেকে সুক্রোলোজ ব্যবহার করে মিষ্টি খাবার খেয়েও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন আপনার ডায়াবেটিস এবং ওজন।