লাইফস্টাইল

যে ১২টি উপায়ে ব্রণ থেকে প্রতিকার পেতে পারেন

এমবিবিএস। মেডিকেল অফিসার, রাশমোনো হাসপাতাল, ঢাকা।

সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। কিন্তু ব্রণ বা পিম্পল নিমিষেই নষ্ট করে দিতে পারে মুখের শ্রী। ব্রণকে তাই বলা যায় সৌন্দর্যহানীর অন্যতম প্রধান কারন। ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্রণের প্রবণতা প্রায় সমান। সাধারণত টিনএজ বয়সে ব্রণের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। প্রায় ৮০ ভাগ ছেলে-মেয়েই টিনএজ বয়সের কোনো না কোনো সময়ে ব্রনের সমস্যায় ভুগে। ২০ বছর বয়সের মাঝামাঝি সময় থেকে ব্রণ হওয়ার হার কমতে থাকে। তবে অনেকের ৩০-৪০ বছর বয়স পর্যন্ত ব্রণ হতে পারে। ব্রণের প্রকোপ সাধারনত মুখে ,পিঠে, বুকে ও কাঁধে বেশি দেখা যায়।

ব্রণ কেন হয় ?

সাধারণত আমাদের লোমকূপের গোড়ায় অবস্থিত সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে সেবাম নামক এক ধরনের তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসৃত হয়। এই সেবাম আমাদের ত্বককে মসৃণ রাখে। কোন কারনে ত্বকের বাইরের স্তরের ঝরে পড়া কোষগুলো লোমকূপের মুখ বন্ধ করে দিলে সেবাম নিঃসরণ বাধাপ্রাপ্ত হয়।তখন তা ভিতরে জমে ফুলে ওঠে। একেই ব্রণ বা একনি কিংবা পিম্পল বলে। কখনো কখনো ব্রণের চারপাশে ব্যাকটেরিয়া আক্রমন করে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই প্রদাহ থেকে সংক্রমণ হয়ে পুঁজ জমতে পারে। আবার বয়ঃসন্ধিকালে টেস্টোস্টেরন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের প্রভাবে ত্বকের সিবেসিয়াস গ্রন্থি অতিরিক্ত তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসরণ শুরু করে। এই তেল জাতীয় পদার্থ বের হতে না পেরে গ্রন্থির ভিতরে জমতে থাকে। ফলে এসব হরমোনের প্রভাবেও ব্রণ হতে পারে ।

 

ব্রণের প্রকারভেদ:

১) ট্রপিক্যাল একনি: অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং বাতাসের আর্দ্রতা বেশি হলে পিঠে ও উরুতে ব্রণ হয়।

২) প্রিমিন্সট্রুয়াল একনি: অনেক নারীদের মাসিক শুরুর সপ্তাহ খানেক আগে মুখে ব্রণ দেখা দেয়।

৩) একনি কসমেটিকা: বহুদিন ধরে কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করলে মুখে অল্প পরিমাণে ব্রণ হতে পারে।

আরো পড়ুন  ডায়াবেটিসজনিত পায়ের রোগ: প্রতিকারের ১২টি উপায়

৪) একনি ডিটারজিনেকস: বারবার সাবান দিয়ে মুখ ধুলেও ব্রণে হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।

৫) স্টেরয়েড একনি: স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন বা ব্যবহার করলেও ব্রণ হতে পারে।

 

প্রতিকারের উপায়:

১) ব্রণের সাথে খাবারের তেমন সম্পর্ক নেই । তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ব্রণের প্রকোপ থেকে অনেকটাই দূরে রাখবে। তাই বেশি করে সবুজ শাক-সবজি ও ফলমূল খেতে হবে।

২)তৈলাক্ত, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মসলাজাতীয় খাবারসহ চকলেট, আইসক্রিম ইত্যাদি খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে।

৩) প্রচুর পানি পান করতে হবে। দিনে ২-৩ লিটার পানি পান করুন। এতে ত্বক সুন্দর ও সতেজ থাকবে।

৪) মানসিক চাপ পরিহার করুন এবং রাতে ঠিকমতো ঘুমানোর চেষ্টা করুন। প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।

৫) মুখের তৈলাক্ততা কমাতে ভালো ফেসওয়াশ দিয়ে দিনে কয়েকবার মুখ ধুতে হবে।

৬) নিজে পরিস্কার-পরিছন্ন থাকতে হবে। ব্যবহার্য সামগ্রীও ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।

৭) অনেকে ফর্সা হওয়ার জন্য স্টেরয়েড অয়েনমেন্ট ব্যবহার করেন। এতে ত্বক নষ্ট হয়ে যায় এবং ব্রণ হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

৮) ব্রণ একবার হয়ে গেলে খোঁটা যাবে না। খুঁটলে গর্ত হয়ে সৌন্দর্য নষ্ট হবে। তাছাড়া হাত আর নখ থেকে জীবাণু ছড়িয়ে ব্রণে সংক্রমণ হতে পারে।

৯) ব্রণ হলে ব্রণের উপর বরফ ঘষলে বা শসা, কাঁচা হলুদ কিংবা পেঁপের পেস্ট ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।

১০) এছাড়া ব্রণের উপর নিমের তেল ও মধু ব্যবহার করা যেতে পারে।

১১) গরম পানির ভাঁপ দিলে বন্ধ হয়ে যাওয়া লোমকূপ খুলে যায়। ফলে ব্রণের পরিমাণ কমে।

১২) ব্রণ পেকে গেলে, পরিমাণে বেশি হলে কিংবা সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।