খাদ্য ও পুষ্টি

যে ১২টি কারনে নিয়মিত মধু খাবেন

এমবিবিএস, ডিএলও (ইন কোর্স)। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ।

মধুকে বলা হয় ‘সব ওষুধের মা’। কারন এটা মাথা থেকে পা পর্যন্ত অনেক রোগের ওষুধ হিসাবে কাজ করে। প্রাচীনকাল থেকেই পথ্য ও উপাদেয় খাবার হিসাবে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চার হাজার বছর পূর্বে ভারতবর্ষে ওষুধ হিসাবে মধু ব্যবহারের নজির পাওয়া যায়। এছাড়া প্রাচীন মিশর ও আরবে কয়েক হাজার বছর আগেও ওষুধ ও পথ্য হিসাবে মধু ব্যবহারের প্রচলন ছিল। আয়ুর্ভেদ ও ইউনানি চিকিৎসা ব্যবস্থায় মধু গুরুত্বপূর্ণ পথ্য। হাল আমলে অ্যালোপ্যাথির ডাক্তাররাও মেনে নিচ্ছেন ওষুধ ও পথ্য হিসাবে মধুর কার্যকারিতা।

সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে জটিল হৃদরোগ, সবখানেই রয়েছে মধুর কার্যকর ভূমিকা। নিচে নিয়মিত মধু খাওয়ার ১২টি উপকারিতা আলোচনা করা হল-

১) মধুতে ৩১ ধরনের পুষ্টি উপাদান, ১৩ ধরনের খনিজ পদার্থ, ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড এবং বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও এনজাইম প্রচুর পরিমাণে রয়েছে।

২) মধু রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায় ও রক্তশূন্যতা দূর করে।

৩) নিয়মিত মধু খেলে শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়ে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকজনিত রোগের প্রকোপ কমে।

৪) মধু ফুসফুসের এপিথেলিয়াম টিস্যুর কর্ম ক্ষমতা বাড়ায়। হালকা গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে কাশি ও শ্বাসনালীর সংক্রমণে উপকার পাওয়া যায়। দীর্ঘস্থায়ী ব্রংকাইটিস, রাইনাটিস এবং সাইনাসের প্রদাহেও এটা খুব কার্যকর।

৫) খাদ্যনালীর প্রদাহ ও বদহজমেও মধু খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। মধু সহজে হজম হয় এবং শরীরে শক্তি যোগায়।

৬) শরীরের ওজন কমাতেও মধু উপকারী। নিয়মিত খাবারের সাথে মধু খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে।

আরো পড়ুন  যে ৯টি কারণে নিয়মিত পেঁপে খাওয়া উচিত

৭) মধুতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েডস ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং হৃদপিণ্ডকে ভালো রাখে।

8) রাতে দুই চামচ করে মধু নিয়মিত খেলে অনিদ্রা রোগ দূর হয় এবং ভালো ঘুম হয়।

৯) পুরুষের যৌন দূর্বলতা ও দ্রুত বীর্যপাত সমস্যা সমাধানে মধু অত্যন্ত কার্যকর পথ্য।

১০) মধু প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। শরীরের উপরিভাগ পুড়ে গেলে সিলভার সালফাডায়াজিনের বদলে মধু ব্যবহার করা যায়। এছাড়া বিষাক্ত পোকার কামড়, কাটা-ছেঁড়া ও ক্ষতস্থানে মধু ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার মোকাবেলাতেও মধু ভালো কাজ দেয়।

১১) আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথায় মধু খুবই উপকারী। এটা প্রদাহ কমায় এবং নতুন কোষ ও টিস্যু তৈরীতে সহায়তা করে। মধুর সাথে আদা মিশিয়ে খেলে অনেক জটিল রোগ থেকে বেঁচে থাকা যায়।

১২) মধু চুল পড়া রোধ ও চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধিতেও কার্যকর। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা চুলে পুষ্টি যোগায় এবং মাথার ত্বককে করে কোমল। এছাড়া এক চামচ মধুর সাথে দুই চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে তা চুলের গোড়ায় লাগিয়ে বিশ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে। নিয়মিত এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে খুশকি দূর হবে, চুল পড়া বন্ধ হবে এবং চুল হয়ে উঠবে ঘন, কালো ও মসৃণ।

তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুদের কখনোই মধু খেতে দেয়া উচিত নয়। কারন তা শিশুর হজমে সমস্যা তৈরী করতে পারে এবং এতে শিশুর বটুলিজম রোগ হতে পারে।