লাইফস্টাইল

রমজানে সুস্থ থাকার ৬টি টিপস

বি.এস.সি (অনার্স) পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি, মাস্টার্স ইন পাবলিক হেলথ (অধ্যায়নরত)।

এ বছর একটু বেশি গরমেই রমজান মাস পড়েছে। তার উপর সাওম পালনের সময়টাও বেশ দীর্ঘ। প্রায় ১৬ ঘন্টার মত সময় ধরে রোজা রাখতে হচ্ছে। এ কারনে অনেকেরই নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অথচ সহজ কিছু টিপস মেনে চললেই এই দীর্ঘ সময় ধরে রোজা রেখেও সুস্থ থাকা যায়। চলুন এমন কিছু কৌশল জেনে নেই-

১. ইফতার শুরু করুন খেজুর দিয়েঃ খেজুর সুগারের একটি অন্যতম উৎস। এটা খুব সহজে এবং কার্যকরভাবে সারাদিনের শক্তিক্ষয় পূরণ করতে পারে। খেজুরে প্রচুর আঁশ বা ফাইবার থাকে যা পরিপাকে সাহায্য করে। এছাড়াও খেজুরে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামও থাকে যা শরীরের জন্য বেশ উপকারী।

২. বেশি করে পানি পান করুনঃ গরম আবহাওয়ার কারনে ইফতারের সময় এবং ইফতারের পরে আপনাকে স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বেশিই পানি পান করতে হবে। তবে ইফতার বা সাহরীতে গলা পর্যন্ত পানি খেয়ে তেমন কোন লাভ নেই। তার চাইতে রাতের যতটুকু সময় জেগে থাকেন ততটুকু সময়ে কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি পান করুন। এতেই শরীরের প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা মিটে যাবে।

৩. পিপাসা থেকে দূরে থাকুনঃ রমজান মাসে স্পাইসি ফুড, নোনতা বা সল্টি ফুড, প্যাকেটজাত প্রসেসড ফুড এবং ভাজা-পোড়া খাবার থেকে দূরে থাকুন। কারণ এগুলো অতিরিক্ত পানি শুষে নিয়ে রোজা অবস্থায় আপনার পিপাসা বাড়িয়ে দেবে। তার চাইতে বরং রমজান মাসে বেশি বেশি ফলমূল আর শাক-সব্জি খান।

৪. আস্তে ধীরে রোজা ভাঙ্গুনঃ ইফতার শুরু করুন দুটো খেজুর খেয়ে এবং অল্প পরিমাণ পানি পান করে। এরপর যথাক্রমে ছোট এক বাটি স্যুপ বা ছোলা ও কিছুটা সালাদ খান। এবার মাগরিবের নামাজটা পড়ে আসুন। নামাজের পরে একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার কিছু খান। এভাবে আস্তে-ধীরে খেলে খাবার পরিপাক ভালো হয়। ইফতারে ভাজা-পোড়া না খাওয়াই উচিত। কারণ সারাদিন না খেয়ে হঠাৎ তেলে ভাজা খাবার খেলে পাকস্থলীর উপরে চাপ পড়ে। যেহেতু সময়টা গরমকাল তাই খাবারের বিষয়ে সতর্ক থাকাই

৫. ইফতার ও সাহরীতে স্বাস্থ্যকর খাবার খানঃ ইফতার বা সাহরীতে দানাদার খাদ্য, পর্যাপ্ত আমিষ বা প্রোটিন,  শাক-সব্জি ও ফলমূল যেন থাকে সে বিষয়টা নিশ্চিত করতে হবে। আঁশ জাতীয় খাবার, চর্বি ছাড়া গোশত যেমনঃ মুরগী বা কবুতরের গোশত, মাছ, ডাল, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার খেতে পারেন। রান্নায় অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

৬. চা-কফি ও কার্বনেটেড বেভারেজ এড়িয়ে চলুনঃ রমজান মাসে চা-কফির পরিমাণ কমিয়ে দিন। কার্বনেটেড বেভারেজ (যেমন- কোকাকোলা, ফান্টা, সেভেন-আপ, পেপসি ইত্যাদি) এবং সকল প্রকার এনার্জি ড্রিংক্স খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।