খাদ্য ও পুষ্টি

রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে যে ৫টি খাবার

বি.এস.সি (অনার্স) পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি, মাস্টার্স ইন পাবলিক হেলথ (অধ্যায়নরত)।

সুস্থ থাকার জন্য ইম্যুনিটি বা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অক্ষুন্ন থাকাটা খুবই জরুরি। এটা ঠিক না থাকলে সহজেই যেকোন রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। এমনকি প্রাণঘাতি রোগের আক্রমণে সহজেই কাবু হয়ে যেতে হতে পারে। মূলত ক্লান্তি, অবসাদ, দুশ্চিন্তা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, সঠিক খাবার গ্রহণ না করা ইত্যাদি নানা কারনে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নিশ্চিত করা এবং সম্ভব হলে বাড়িয়ে তোলা সবারই একান্ত কর্তব্য। এমন কিছু খাবার রয়েছে যা নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। চলুন এমন কিছু খাবারের কথা জেনে নেই-

১. মধু: মধুর উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। মধু একাধারে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, দ্রুত ক্ষত সারাতে উপকারী এবং কিছু কিছু অ্যালার্জি জনিত সমস্যাতে কার্যকর। সাধারণ ফ্লু ও হালকা সর্দি-কাশিতে মধু ওষুধের মত কাজ করে। এছাড়া মধু শক্তিবর্ধক। এটা অ্যাসিড রিফ্লাক্সে সাহায্য করে এবং যৌন-স্বাস্থ্যের জন্যও ভাল। নিয়মিত মধু খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

২. দই: দইতে প্রচুর উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে। এগুলো আমাদের পাকস্থলী ও খাদ্যনালীকে রোগ সৃস্টিকারী জীবাণু থেকে মুক্ত রাখে। এজন্য দইকে প্রোবায়োটিক ফুডও বলা হয়। দই ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের একটি গুরুত্বপুর্ণ উৎস। গবেষণায় বলছে, দৈনিক ২০০ গ্রাম দই নিয়মিত খেলে শরীরে শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ বাড়ে। যার ফলে রোগে ভোগার ঝুঁকি ৩৩ শতাংশ কমে যায়।

৩. রসুন: রসুনে প্রচুর পরিমানে অ্যালিসিন থাকে, যা ইনফেকশন ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। এছাড়া অরগানো-সালফার সমৃদ্ধ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফাইটোক্যামিকেলস প্রচুর পরিমাণে থাকার কারনে রসুন ফ্রি-রেডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে ও কোষঝিল্লি নষ্ট হবার হাত থেকে বাঁচায়। প্রতিদিন সকালে এক মুঠ মুড়ির সাথে দুই কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যাস করলে চোখ ভাল থাকবে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, কোলেস্টেরল কমবে। পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে এবং শরীর সুস্থ ও সবল থাকবে। এছাড়া রসুন টিউমারের বিরুদ্ধেও কাজ করতে পারে।

আরো পড়ুন  হৃদরোগ প্রতিরোধে কি খাবেন: ২০টি পরামর্শ

৪. আদা: আদিকাল থেকেই আমাদের দেশে পেট খারাপ, মাইগ্রেন, ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি ও খুসখুসে কাশির চিকিৎসায় আদা ব্যবহার হয়ে আসছে। আদা ব্যথানাশক হিসাবেও ব্যবহার করা যায়। আধুনিক গবেষণা বলছে, আদায় প্রচুর পরিমাণে জিঞ্জারলস থাকে যা ওভারিয়ান ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে পারে। নিয়মিত আদা খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

৫. কালিজিরা: কালিজিরাকে বলা হয় মৃত্যু ছাড়া সকল রোগের ওষুধ। আধুনিক গবেষণাগুলোতেও এই কথার কোন ব্যাতিক্রম দেখা যায় না। কালিজিরা একাধারে স্থূলতা, ক্যান্সার ও হৃদরোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। এটা কার্ডিও-প্রোটেকটিভ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। কালিজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক সহায়তা করে। এটা সাধারণ সর্দি-কাশি, নাক বন্ধ, গলা ব্যথা, জ্বর, যেকোন ধরনের শারীরিক দুর্বলতা ও পেটের গোলমালে ভাল কাজ করে। কালিজিরার তেল খুবই উপকারী হার্বাল ওষুধ। কালিজিরা এতটাই উপকারী যে প্রাচীনকালের চিকিৎসকেরা কোন রোগের চিকিৎসা করতে না পারলে রোগীকে কালিজিরা খাইয়ে দিতেন।