মা ও শিশু

শিশুর কানে ইনফেকশন বোঝার ৮টি উপায়

এম.বি.বি.এস, সি.সি.ডি। চিকিৎসক, শিক্ষক ও স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখক। ফিচার লেখক, প্রথম আলো।

বেশিরভাগ শিশুই বেড়ে ওঠার সময় কমপক্ষে একবার হলেও মধ্যকর্ণের ইনফেকশন বা সংক্রমণে ভুগে থাকে। সাধারণত ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এ ধরনের ইনফেকশন বেশি হয়ে থাকে। সময়মত সঠিক চিকিৎসা না করালে এ অবস্থা থেকে মস্তিষ্কের ইনফেকশনও হতে পারে। তবে বিভিন্ন কারণে কানে ব্যথা হতে পারে। যেমন: অনেক সময় টনসিলে ইনফেকশন হয়েও কানে ব্যথা হতে পারে।

কানে ইনফেকশনের কারণ

১) বারবার উর্ধ্ব শ্বাসনালীর প্রদাহ,
২) ঘনঘন সর্দি-কাশিতে ভোগা,
৩) টনসিল ও এডিনয়েড সমস্যা,
৪) শিশুদের মধ্যকর্ণের সঙ্গে উর্ধ্বশ্বাসনালীর সংযোগকারী নালীটি দৈর্ঘ্যে কিছুটা ছোট ও মোটা থাকে। পাশাপাশি এর অবস্থান কিছুটা সমান্তরাল হওয়ার কারনে জীবাণু সহজেই মধ্যকর্ণে প্রবেশ করতে পারে,
৫) ছোট্ট শিশুকে একদম চিত করে শুইয়ে দুধ কিংবা অন্য কোন তরল খাওয়ানোর কারণেও কানে ইনফেকশন হতে পারে

ইনফেকশন হলে কিভাবে বুঝবেন ?

১) কানে প্রচণ্ড ব্যথা, যা শিশুকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলবে
২) উচ্চ তাপমাত্রা শিশুকে দুর্বল করে তুলবে
৩) ঠাণ্ডা কাশি ও শ্বাসনালীর প্রদাহ থাকতে পারে
৪) কানের পর্দার রং পরিবর্তিত হয়ে লাল হতে পারে
৫) কানের পর্দা ফুলে যেতে পারে
৬) পর্দা বা টেম্পেনিক মেমব্রেন ছিঁড়ে বা ফুটো হয়ে যেতে পারে
৭) হলুদ পুঁজ বা রক্ত পড়তে পারে
৮) কান দিয়ে পুঁজ বা রক্ত পড়ার পর ব্যথা কমে যাবে

আরো পড়ুন  গর্ভকালীন সময়ে যে খাবারগুলো খাওয়া জরুরি

কানে ইনফেকশনের চিকিৎসা

শিশুর কানে এ ধরনের ব্যথা হলে দেরি না করে সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে। প্রথমত যথাযথ কারণ খুঁজে বের করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করে সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ দিতে হবে।ওষুধের কোর্স সমাপ্ত হওয়ার আগেই শিশুটি সুস্থবোধ করতে পারে। তবে এতে ওষুধ বন্ধ না করে কোর্স সম্পূর্ণ করতে হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা তা না হলে ইনফেকশন সৃষ্টিকারী জীবাণু ওষুধটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। তখন শিশুটির কানে ইনফেকশন হওয়ার অশঙ্কাও বেড়ে যায়। অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অপারেশন করানো লাগতে পারে। ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। নাক বন্ধ থাকলে নাকের ড্রপ দিতে হবে। এছাড়া নিয়মিত কান পরিষ্কার করতে হবে। অযথা কান খোঁচাখুঁচি না করাই ভাল।