স্বাস্থ্য

শীতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ার ৫টি কারন

এমবিবিএস (৩য় বর্ষ), ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।

শীত আমাদের অনেকেরই প্রিয় ঋতু। কিন্তু এই শীতেই হয়ত অনেকের জীবনে নেমে আসতে পারে দুর্বিষহ দুর্যোগ। এই সময় হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার হার বাড়ে। ডাক্তারি পরিভাষায় একে বলে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন। শীত এলে তাই হার্ট বা হৃদযন্ত্রের সুস্থতার ব্যাপারে বাড়তি নজর দেয়া জরুরী।

 

শীতের সময় নানা কারনে হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশনের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। চলুন শীতে হার্ট অ্যাটাক বৃদ্ধির কয়েকটি প্রধান কারন জেনে নেই-

 

১) শীতের সময় তাপমাত্রা কম থাকায় রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যেতে পারে। সংকুচিত রক্তনালী অক্সিজেনের অভাবের জন্য দায়ী। অক্সিজেনের অভাবে হৃদপেশির মারাত্মক ক্ষতি সাধন হয়। এতে হার্ট অ্যাটাক তরান্বিত হয়।

২) অতিরিক্ত ঠাণ্ডা আবহাওয়া প্রতিরোধে শীতকালে রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়াকে বেশ শক্তিশালী হতে হয়। ফলে হার্টকে একটু বেশি খাটতে হয়। কিন্তু যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ রয়েছে তাদের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াক্ষমতা কম থাকে। তাদের হার্ট অতিরিক্ত চাপ নিতে পারে না। এ কারনে শীতের সময় তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।

৩) শীত এলেই শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রটা একটু কমে যায়। সকালে ঠাণ্ডা ও বিকালে সময় কম থাকায় অনেকে এ সময় শরীরচর্চাও বন্ধ করে দেন। তার চাইতে বরং সময়টা শুয়ে-বসে আয়েশী ভঙ্গিতে কাটাতেই পছন্দ করেন বেশ। কাজেই এ সময়ে শরীরটা অন্য সময়ের তুলনায় একটু নিস্ক্রিয় হয়ে থাকে। এটাও হার্ট অ্যাটাকের মাত্রা বাড়ায়।

৪) আমাদের দেশের সংস্কৃতি অনুযায়ী শীতকালে সামাজিক অনুষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যায়। এসব অনুষ্ঠানে খাওয়া-দাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এ সময় চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ার পরিমাণ বাড়ে যা হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

৫) রেড মিট বা গরু-খাসির মাংস শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায়। শীত এলে তাই অনেকে এগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়েন। রেড মিটে আমিষ এবং চর্বি দুটোই থাকে। প্রোটিন শরীরের জন্য উপকারী হলেও রেড মিটের চর্বি হার্টের জন্য ক্ষতিকর। এই চর্বি রক্তনালীতে জমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

মূলত আবহাওয়াজনিত পরিবর্তন, জীবন-যাপনের ধরন ও খাদ্যাভ্যাসই শীতে হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী। শীতে তাই খাদ্যাভ্যাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রেড মিট বাদ দিয়ে মাছ খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। কারন মাছেও পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন থাকে যা শরীরের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে এবং দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখে। তাছাড়া মাছে আছে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যা হার্টের জন্য খুবই উপকারী। পাশাপাশি প্রতিদিন সহনীয় মাত্রায় শরীর চর্চা করতে হবে। এতে রক্তনালীগুলো সচল থাকবে ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমবে। মূলত একটু সচেতনতা ও সতর্ক জীবন-যাপনই শীতে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।