খাদ্য ও পুষ্টি

স্ট্রবেরির ১০টি পুষ্টিগুণ

চিকিৎসক ও তরুণ উদ্যোক্তা। বেসরকারী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

স্ট্রবেরি সুস্বাদু ফল। টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফলটি এখন আমাদের দেশেই উৎপাদিত হয়। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফলটিতে আরো বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম স্ট্রবেরিতে ৩৩ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া এটি ভিটামিন বি, ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস ও ফ্লুরাইডের ভালো উৎস। স্ট্রবেরিতে থাকা ফাইবার বা আঁশ মিষ্টি জাতীয় খাবার থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে৷ এছাড়া সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দাবী করা হয়েছে, স্ট্রবেরি খেলে মানুষের মন পুলকিত থাকে। চলুন স্ট্রবেরির আরো কিছু গুণাগুণ জেনে নেই-

১. আমাদের শরীরে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ও নমনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে কোলাজেন। কোলাজেন উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি প্রয়োজন। স্ট্রবেরিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এ কারনে নিয়মিত স্ট্রবেরি খেলে ত্বক থাকে সুন্দর, সতেজ ও তারুণ্যদীপ্ত।

২. স্ট্রবেরিতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা অস্থিসন্ধির প্রদাহ কমিয়ে দিতে বেশ কার্যকর। অন্য যেকোন অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের তুলনায় স্ট্রবেরির অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অনেক দ্রুত কাজ করে। অস্থিসন্ধির প্রদাহজনিত হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও তাই স্ট্রবেরির ভূমিকা রয়েছে।

৩. স্ট্রবেরি রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। স্ট্রবেরিতে এলাজিক অ্যাসিড নামের একটি অ্যাসিড থাকে। এটি খারাপ কোলেস্টেরলকে প্রশমিত করে দেয়।

৪. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে স্ট্রবেরি ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। স্ট্রবেরিতে হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী রাসায়নিক উপাদান পটাশিয়াম পাওয়া যায়। এটি উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে দেয় এবং শরীরে সোডিয়ামের প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।

আরো পড়ুন  জেনে নিন আপেলের ৭টি পুষ্টিগুণ

৫. স্ট্রবেরির অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান সূর্য থেকে আসা অতি বেগুনী রশ্মি হতে আমাদের চোখকে রক্ষা করে। চোখের কর্নিয়া ও অক্ষিপটকে শক্তিশালী করতেও স্ট্রবেরি বেশ কার্যকর। স্ট্রবেরি খেলে ছানি পড়া থেকে চোখ রক্ষা পেতে পারে।

৬. গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্রবেরির এলাজিক অ্যাসিড ক্যান্সারের অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধিকে বাধা দিতে সক্ষম। ফলে ক্যান্সার প্রতিরোধেও স্ট্রবেরি বিশেষ ভূমিকা রাখে।

৭. স্ট্রবেরিতে শর্করা, চর্বি এবং সোডিয়ামের পরিমাণ অনেক কম। তাই এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে ভালো ভূমিকা রাখে। এছাড়া একই কারনে টাইপ টু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও স্ট্রবেরির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

৮. স্ট্রবেরিতে আঁশের পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় এটি খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে। ফলে দেহ অতিরিক্ত শর্করা শোষণ করতে পারে না।

৯. স্ট্রবেরিতে ফলেট বা ভিটামিন বি ৯ পাওয়া যায়। এই ভিটামিন মাতৃগর্ভে থাকা শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের গঠনে সহায়তা করে। গর্ভবতী মায়েদের খাদ্য তালিকায় তাই অনায়াসেই স্ট্রবেরি রাখা যায়।

১০. স্ট্রবেরিতে ভালো পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়। হাড় ও দাঁতের জন্য তাই স্ট্রবেরি খুবই উপকারী ফল।