খাদ্য ও পুষ্টি

স্বাস্থ্য রক্ষায় মূলার ১০টি গুণ

ইন্টার্নি চিকিৎসক, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল।

মূলা খুবই সহজলভ্য ও পরিচিত সবজি। অনেকেই মূলাকে ভিন্ন চোখে দেখে থাকলেও স্বাস্থ্য রক্ষায় মূলা বেশ উপকারী। প্রতি ১০০ গ্রাম মূলাতে ০.৭ গ্রাম প্রোটিন, ৩.৪ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০.১ গ্রাম ফ্যাট, ০.৮ গ্রাম আঁশ, ৫০ মি.গ্রা. ক্যালসিয়াম, ২২ মি.গ্রা. ফসফরাস, ০.৪ মি.গ্রা. লোহা, ১৩৮ মি.গ্রা. পটাশিয়াম এবং ১৫ মি.গ্রা. ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়। মূলার চেয়ে মূলার পাতার গুণ বেশি। কচি মূলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায়। খেতেও খুব মজাদার। চলুন মূলার পুষ্টিগুণগুলো সম্পর্কে জেনে নেই-

 

১. মূলা পটাসিয়াম সমৃদ্ধ সবজি। এটি রক্তে পটাসিয়াম ও সোডিয়ামের মাত্রা ঠিক রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

২. মূলাতে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন। এটি হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ ও সচল রাখতে সাহায্য করে।

৩. মূলা রক্তের বিলিরুবিনের মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং তা দেহের জন্য গ্রহণযোগ্য মাত্রায় নিয়ে আসে। জন্ডিস রোগীদের জন্য মূলা তাই অত্যন্ত উপকারী।

৪. মূলা দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষুধা নিবৃত্ত রাখে। ধীরে ধীরে হজম হওয়ায় এটি দেহের ওজন কমাতেও সাহায্য করে। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মূলা খুবই উপকারী।

আরো পড়ুন  প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার ৭টি সুফল

৫. লাল বর্ণের মূলাতে রয়েছে ক্যারোটিনয়েডস। এটি চোখের দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে। এছাড়া মুখ, পাকস্থলী, বৃহদান্ত্র ও অন্ত্রের ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে।

৬. মূলাতে প্রচুর পরিমাণে আঁশ পাওয়া যায়। আঁশ সমৃদ্ধ হওয়ায় মূলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূরকরে। পাইলসের তীব্রতা প্রশমনেও তাই মূলার ভূমিকা আছে।

৭. কিডনি ও মুত্রথলির প্রদাহ জনিত রোগে মূলা বেশ উপকারী।

৮. মুলাতে পর্যাপ্ত পরিমানে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, জিঙ্ক ও ফসফরাস রয়েছে। এই উপাদানগুলো দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা বাড়ায়।

৯. শ্বেত রোগের চিকিৎসায় মূলা বেশ কার্য়কর। মূলার বীজ এবং আদার রস ভিনেগারে ভিজিয়ে আক্রান্ত জায়গায় লাগালে অনেকটা কাজ হয়।

১০. ত্বকের সুস্থতায়ও মূলা ভালো কাজ দেয়। ত্বক পরিচর্যায় মূলা ব্যবহার করা যায়। কেননা এটি অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। কাঁচা মূলার পাতলা টুকরা ত্বকে লাগিয়ে রাখলে ব্রণ নিরাময় হয়।