লাইফস্টাইল

ক্যান্সার প্রতিরোধের ৮টি উপায়

ইন্টার্নি চিকিৎসক, শহীদ সোহরাওয়ার্দি মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।

বাংলাদেশে দিন দিন আশংকাজনক হারে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ক্যান্সারকে বলা হয়, মাল্টি-ফ্যাক্টোরিয়াল ডিজিস। এর অর্থ হচ্ছে, ক্যান্সার হওয়া বা না হওয়া অনেকগুলো কারণ বা ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে। যেমন: জেনেটিক্স বা বংশগতি, চারপাশের পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি। এই সবগুলো কারণকে নিয়ন্ত্রণ করে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা অনেকটাই কঠিন বলে মনে হয়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সারের মত মরণঘাতি রোগও প্রতিরোধ করা সম্ভব। শুধুমাত্র ৮টি নিয়ম মেনে চললেই আপনার ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যাবে। চলুন জেনে নেই, সেই ৮টি উপায়-

 

ছবি: ধূমপান বন্ধ করুন।

১। ধূমপান বন্ধ করুন:

ক্যান্সার-এর সবচে ভয়াবহ ঝুঁকির কারণ হল ধূমপান করা।  সিগারেটের ধোঁয়ায় অনেক ক্যান্সার উৎপাদী পদার্থ (কার্সিনোজেন) থাকে। এগুলোর কারণে ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে। এছাড়া মেয়েদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যান্সারও হতে পারে।

২। ওজন নিয়ন্ত্রিত করুন:

স্থুলতা বা অতিরিক্ত ওজন শরীরে ফ্রি-র‍্যাডিকেল-এর পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, যা আমাদের শরীরের কোষগুলোকে নষ্ট করে ফেলে। এর পরিণতিতেই ক্যান্সার হয়। চিকিৎসকরা তাই শরীরের অতিরিক্ত চর্বি, বিশেষ করে তলপেটের চর্বি কমানোর কথা বলেন। অতিরিক্ত স্থুলতা যেমন ক্যান্সার ঝুঁকি বাড়ায় তেমনি হৃদরোগ বা হার্ট ডিজিজের সম্ভাবনাও বাড়ায়।

৩। নিয়মিত ব্যায়াম করুন:

জার্নাল অফ আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন-এ প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়মিত ব্যায়াম করলে ১৩ ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। এর মধ্যে রয়েছে স্তন বা ব্রেস্ট ক্যান্সার, বোন ম্যারোর ক্যান্সার, কোলন, কিডনি, লিভার, ফুসফুস এবং মূত্রথলির ক্যান্সার। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

ছবি: তাজা ফল-মূল এবং শাক-সবজি বেশি করে খেতে হবে।

৪। নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস:

আরো পড়ুন  কেমন হওয়া উচিত কর্মজীবি নারীর সকালের নাস্তা: ৫টি টিপস

দুঃখজনক হলেও সত্যি আমরা ইদানিং ফাস্ট ফুডের প্রেতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছি। এর ফলে বাড়ছে ক্যান্সারের ঝুঁকি। ফাস্ট ফুড শরীরের ওজন বাড়িয়ে দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ক্যান্সার প্রতিরোধে রেড মিট বা লাল মাংস এবং পোড়া মাংস খাওয়া কমাতে হবে। তাজা ফল-মূল এবং শাক-সবজি বেশি করে খেতে হবে।

৫। মদ্যপান পরিহার করতে হবে:

মদ্যপান বেশ কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। যেমন: লিভার ক্যান্সার, সারভাইকাল ক্যান্সার ইত্যাদি। তাই অবশ্যই মদ্যপান পরিহার করা উচিত।

৬। তীব্র সূর্য রশ্মি পরিহার করুন:

তীব্র সূর্য রশ্মিতে আল্ট্রা ভায়োলেট রে বা অতিবেগুনি রশ্মি থাকে। এটা ত্বক বা স্কিন ক্যান্সারের প্রধান কারণ। এ কারণে বাইরে যাওয়ার সময় সান-প্রোটেকশন ক্রিম ব্যাবহার করা উচিত। তবে এই ক্রিম দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার না করাই শ্রেয়। সেক্ষেত্রে কালো ছাতা, টুপি বা ক্যাপ, ভেজা রুমাল এবং ফুল হাতা জামা ব্যবহার করা উচিত।

৭। টিকা গ্রহনঃ

ক্যান্সার প্রতিরোধে বেশ কিছু টিকা রয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস বি ভ্যাক্সিন দেয়া হয় যা লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এছাড়া ৯-২৫ বছর বয়সী মেয়েদের সারভাইকাল ক্যন্সারের ভ্যাক্সিন দেয়া হয়। এটা মেয়েদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

৮। ক্যান্সার করতে পারে এমন পদার্থ এড়িয়ে চলুন:

এনিলিন ডাই নামের এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ মূত্রথলীর ক্যান্সার করে। খাদ্যে ব্যবহৃত ফরমালিন বা পচন রোধক পদার্থ পাকস্থলীর ক্যান্সার করে। অনেকে চুলের কলপ ব্যবহার করেন যা ত্বকের ক্যান্সার করতে পারে। এই ধরনের পদার্থ থেকে দূরে থাকলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।