স্বাস্থ্য

শিশুর অটিজম আছে কিনা কিভাবে বুঝবেন?

এমবিবিএস, বিসিএস। মেডিকেল অফিসার, বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বরিশাল।

অটিজম হল মস্তিষ্কের বিকাশজনিত জটিল ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা। সারা বিশ্বে অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা ১০ মিলিয়নেরও বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর বিস্তার ১০ থেকে ১৭ শতাংশ বেড়েছে। অটিজিমে আক্রান্তদের সাধারণত অটিস্টিক বলা হয়। অটিস্টিক শিশু কখনোই পুরোপুরি সেরে উঠবে না। তারপরও যথাযথ সহযোগিতা, সমর্থন ও শিক্ষা পেলে পরিণত বয়সে অটিস্টিক শিশূর পক্ষে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করা সম্ভব।

অটিজমের প্রকাশ বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন: স্বাভাবিক আচরণে সমস্যা, কথার মাধ্যমে ভাব প্রকাশে অক্ষমতা এবং একই আচরণের পুনরাবৃত্তি করার প্রবণতা। মস্তিষ্কের প্রাথমিক বিকাশকালীন সময়ে অটিজম এর সুচনা হতে পারে। বেশিরভাগ সময়ে লক্ষনসমুহ ২ থেকে ৩ বছর বয়সের শিশুদের মাঝে স্পষ্টভাবে দেখা দেয়। দ্রুত রোগ নির্ণয় করা গেলে ও চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হলে অটিস্টিক শিশুদের আচরণে দৃশ্যমান উন্নতি দেখা যায়।

কেন অটিজম হয়?

অটিজম বিভিন্ন রকমের আছে। কোন সুনির্দিষ্ট কারনে অটিজম হয় না। কিছু বিরল জিনগত পরিবর্তন বা মিউটেশন এর কারনে অটিজম হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মস্তিষ্কের বিকাশকালীন সময় জিনগত ও পরিবেশগত উপাদানের প্রভাবে অটিজম হয়ে থাকে। গর্ভধারণ এর সময় পিতা-মাতার অধিক বয়স, গর্ভকালীন অবস্থায় মায়ের অসুস্থতা, স্বাভাবিক সময়ের অনেক আগেই ভূমিষ্ট হওয়া, স্বাভাবিকের চাইতে কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া, প্রসবকালীন জটিলতা যেমন জন্মের সময় শিশুর মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কম পাওয়া প্রভৃতি কারনও অটিজমের জন্য দায়ী। তবে এটাও স্মরণে রাখা জরুরি যে, এসব উপাদান একক ভাবে অটিজম তৈরী করে না। বরং বংশগত উপাদানসমূহের সাথে এদের সমন্বয় ঘটলে ঝুঁকির পরিমাণটা বাড়ে।

আরো পড়ুন  সুস্থতার জন্য ৬টি উপকারী পুষ্টিতথ্য

কিভাবে বুঝব শিশুর অটিজম আছে কিনা?

শিশুর বয়স ১৮ থেকে ২৪ মাস না হওয়া পর্যন্ত সুনিশ্চিতভাবে অটিজম নির্ণয় করা যায় না। তারপরও কয়েকটি বিষয়ে অভিভাবকদের বিশেষ লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলো যদি পরিলক্ষিত হয় তবে অভিভাবকদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে-

১) শিশু যদি ৬ মাস বয়সের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে না হাসে।

২) ৯ মাস বয়সের মধ্যে তার চারপাশের মানুষদের কথা, শব্দ, হাসি ও মুখের ভাবভঙ্গির সাথে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ামূলক আচরণ না করে।

৩) ১ বছর বয়সের মধ্যে যদি মুখে কোন শব্দ না করে, আংগুল দিয়ে কোন কিছু না দেখায় কিংবা হাত দিয়ে কোন কিছুকে শক্ত করে না ধরে।

৪) ১ বছর বয়সের মধ্যে কোনো অঙ্গ-ভঙ্গী না করে।

৫) ১৬ মাসের মধ্যে যদি কোন শব্দ না বলে।

৬) ২ বছরের মধ্যে যদি দুটি শব্দের সংমিশ্রণ (পুনরাবৃত্তি না করে) করে বাক্য তৈরী করে কথা না বলে।

৭) শিশুটির অর্জিত যোগাযোগ বা সামাজিক দক্ষতা হঠাৎ করে যদি হারিয়ে যায়।