স্বাস্থ্য

অণ্ডথলি ফুলে যাওয়ার ১০টি কারণ ও প্রতিকার

জেনারেল ও কোলোরেক্টাল সার্জন, লাইফ এইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ঢাকা।

বিভিন্ন কারণেই যে কারো অণ্ডথলি ফুলে যেতে পারে। এই সমস্যাটি খুবই সাধারণ। কিন্তু লজ্জার কারণে অনেকেই সমস্যার কথা প্রকাশ করেন না। যেহেতু অঙ্গটি স্পর্শকাতর তাই সহজে কেউ চিকিৎসকের কাছেও যেতে চান না, গেলেও লজ্জার কারণে ঠিকমত সমস্যার কথা উপস্থাপণ করতে পারেন না। অনেকে আবার অণ্ডথলি ফুলে গেলেই হার্নিয়া হয়েছে বলে মনে করেন।

কিন্তু অণ্ডথলি ফুলে যাওয়া মানেই হার্নিয়া নয়। মূলত পেটের মধ্যস্থ খাদ্যনালী বা অন্য যেকোনো অঙ্গ পেটের দুর্বল স্থান দিয়ে বাহিরে বের হয়ে চলে আসাকে হার্নিয়া বলে। হার্নিয়া ছাড়াও অণ্ডথলি ফুলে যাওয়ার আরও অনেক কারণ রয়েছে। অণ্ডথলি ফুলে যাওয়ার প্রধাণ কারণগুলো হচ্ছে-

১. আঘাতজনিত।
২. হার্নিয়া।
৩. অণ্ডকোষের চারপাশে পানি জমা হওয়া (ডাক্তারি ভাষায় একে বলে হাইড্রোসিল)।
৪. অণ্ডকোষের চারপাশে পূজ জমা হওয়া (পায়োসিল)।
৫. অণ্ডথলির রক্তনালী ফুলে যাওয়া (ভেরিকোসিল)।
৬. অণ্ডকোষ প্যাঁচ লেগে যাওয়া।
৭. অণ্ডকোষের টিউমার।
৮. অণ্ডকোষের সংক্রমণ।
৯. অণ্ডকোষের যক্ষা।
১০. সিস্ট।

ছবি: অণ্ডথলি ফুলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরণের শারীরিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

অণ্ডথলি ফুলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরণের শারীরিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ব্যথা থাকতে পারে। এছাড়া অনেকের প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে। রোগীর সমস্যা শুনে, আক্রান্ত স্থান দেখে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা সঠিক রোগ নির্ণয় করে থাকেন। সাধারণত সঠিকভাবে রোগনির্ণয়ের জন্য রক্ত, প্রস্রাব এবং অণ্ডথলির আল্ট্রাসনোগ্রাফি ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।

আরো পড়ুন  ক্যানসার রোগের চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো কি কি ?

মনে রাখতে হবে, অণ্ডথলি খুবই স্পর্শকাতর অঙ্গ। কখনও অণ্ডথলিতে সুঁই ফুটিয়ে পরীক্ষা করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতিত ওষুধ গ্রহণ থেকেও বিরত থাকা উচিত। বরং অণ্ডথলি ফুলে গেলে লজ্জা না পেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সময়মত চিকিৎসা নিলে ফুলে যাওয়া অণ্ডথলি আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তাই অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নিন এবং  সুস্থ থাকুন।