স্বাস্থ্য

পাইলসের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে ৮টি করণীয়

এমবিবিএস (৫ম বর্ষ), স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ।

ধারণা করা হয়, দেশে শতকরা ৬০ ভাগ চল্লিশোর্ধ মানুষের পাইলস বা হেমোরয়েডস আছে। লজ্জার কারনে অনেকে এই রোগের কথা প্রকাশ করেন না। এই রোগ নিয়ে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। লজ্জা পেলে রোগটি আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাছাড়া আমাদের দেশে অনেকেই পাইলস নিয়ে ভুল চিকিৎসার শিকার হন। এতে রোগীর স্থায়ী সমস্যা তৈরী হতে পারে। অথচ সময়মত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে পাইলস নিরাময় সম্ভব। চলুন পাইলস রোগের জটিলতা, চিকিৎসা এবং পাইলস প্রতিরোধে করণীয়গুলো জেনে নেই-

 জটিলতা:

১. ঘা হয়ে পুঁজ জমে যাওয়া

২. মলদ্বারে পচন ধরা বা গ্যাংগ্রিন হওয়া

৩. মলদ্বার সরু হয়ে যাওয়া

৪. মলাশয়ের ক্যানসার

 চিকিৎসা:

রোগের তীব্রতার উপর পাইলসের চিকিৎসা নির্ভর করে। প্রথমত, ওষুধ ব্যবহার করা হয়। রক্তপাত না হলে এক ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। রক্তপাত থাকলে ওষুধের সাথে সাপোজিটরি ও অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করা হয়। যদি পাইলস বেরিয়ে আসে তবে ব্যান্ড লাইগেশন করা হয়। ব্যান্ড লাইগেশন ও ইনজেকশন ব্যথামুক্ত সফল চিকিৎসা পদ্ধতি। এতে রোগীর হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয় না।

আরো পড়ুন  অ্যাবসেস বা ফোঁড়ার ১১টি কারন ও চিকিৎসা

দ্বিতীয়ত, রোগীকে অপারেশন করানো হয়। পাইলস যখন মলদ্বারের বাইরে অবস্থান করে এবং ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না অথবা প্রবেশ করানোর পর আবার বের হয় আসে তখনই অপারেশন করাতে হয়। দুই পদ্ধতিতে অপারেশন করা যায়। পুরনো পদ্ধতিতে রোগীকে অনেকদিন হাসপাতালে থাকতে হয়। নতুন পদ্ধতিতে রোগীকে একদিনের বেশি হাসপাতালে থাকতে হয় না। উভয় পদ্ধতিই ব্যথামুক্ত এবং কার্যকর।

প্রতিরোধে করণীয়:

১. পর্যাপ্ত পরিমাণে শাক-সবজি, ফলমূল এবং অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ।

২. অস্বাস্থ্যকর ও তেল-মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করা।

৩. দৈনিক ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা।

৪. নিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাস করা।

৫. নিয়মিত ৬-৮ ঘন্টা ঘুমানো।

৬. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। ওজন কমাতে শরীরচর্চার বিকল্প নেই।

৭. মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপ পরিহার করা।

৮. সময়মতো কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা করানো।