স্বাস্থ্য

মলদ্বারের বিভিন্ন রোগের একই উপসর্গ: প্রচলিত ধারণা ও প্রতিকার

জেনারেল ও কোলোরেক্টাল সার্জন, লাইফ এইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ঢাকা।

অর্শ, গেজ, ভগন্দর, পাইলস কিংবা ফিস্টুলা রোগের বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক চিকিৎসা সর্ম্পকে অনেকেই অবগত নন। না জেনে-বুঝে অনেকেই কবিরাজ বা ওঝার শরণাপন্ন হন। এতে রোগ সারাবার পরিবর্তে রোগী বরং নিজের জীবনে ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনেন। সাধারণ মানুষের ধারণার বাইরে থাকায় এসব রোগে ভুগে অনেকেই তীব্র কষ্ট ভোগ করছেন। অথচ ‘বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারি’ নামে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বিশেষায়িত শাখায় শুধুমাত্র এই ধরনের রোগের চিকিৎসা নিয়ে পড়া-লেখা ও গবেষণা করা হয়।

মলাশয় ও মলদ্বারের রোগীদের ভোগান্তির কারণ:

মলাশয় ও মলদ্বারের বিভিন্ন রোগে রোগীদের ভোগান্তির শেষ নাই। এর উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে–

১. লজ্জাবশত রোগ লুকিয়ে রাখা
২. মলদ্বারে রোগ মানেই পাইলস মনে করা। অথচ এটি বহুল প্রচলিত ভুল ধারণা
৩. সময়মত চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হওয়া
৪. প্রতারক ও হাতুড়ে চিকিৎসকের অপচিকিৎসার শিকার হওয়া
৫. পরিচিত অন্য কোন রোগীর কাছ থেকে রোগের বিবরণ শুনে নিজেই নিজের চিকিৎসা করা

লক্ষণ ও উপসর্গ:

মনে রাখতে হবে, মলদ্বারে রোগ মানেই পাইলস নয়। মলদ্বারে বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে। যেমন: অ্যানাল ফিসার, পাইলস, ফিস্টুলা, অ্যাবসেস বা ফোঁড়া, রেক্টাল পলিপ, রেক্টাল প্রোলাপ্স, রেক্টাল ক্যান্সার, অ্যানাল ওয়ার্ট ইত্যাদি। এই সমস্ত রোগগুলোর প্রধান উপসর্গগুলো প্রায় একই এবং তা কাছাকাছি হওয়ার কারনে রোগীদের মনে সে সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা তৈরী হয়। তারা মনে করে যে,  মলদ্বারে রোগ মানেই পাইলস হয়েছে এবং এই রোগ কখনো ভাল হয় না। এই সমস্ত রোগের উল্লখেযোগ্য কয়কেটি উপসর্গ হচ্ছে:

আরো পড়ুন  মলদ্বারে বিষফোঁড়ার কারন ও চিকিৎসা

১. মলদ্বারে ব্যথা
২. জ্বালাপোড়া করা
৩. রক্ত পড়া (ফোঁটা ফোঁটা অথবা ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়া)
৪. মলদ্বার ফুলে যাওয়া
৫. মলদ্বারে বাড়তি মাংস হওয়া
৬. মলত্যাগের সময় মলদ্বার দিয়ে মাংস বের হয়ে আসা
৭. মলদ্বারে চুলকানি
৮. মলদ্বারের পাশে ছোট ছিদ্র হয়ে পুঁজ পানি পড়া
৯. রক্ত মিশ্রিত আমাশয় হওয়া
১০. মলত্যাগের পর র্পূণতা না আসা
১১. মলদ্বার সর্ম্পূণ বের হয়ে আসা

নিরাময়:

মলদ্বারের রোগগুলোর অনেকগুলোই প্রাথমিকভাবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং নিয়মমাফিক ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। এমনকি সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে এই রোগগুলোর শতকরা ৮০ ভাগ বিনা অপারেশনে নিরাময় সম্ভব। মলদ্বারের চিকিৎসায় পারদর্শী সার্জারি বিশেষজ্ঞ সহজইে রোগের ভিন্নতা অনুযায়ী নিরাময়যোগ্য চিকিৎসা প্রদান করতে পারেন। তাই সমস্যা থাকলে তা নিজের মধ্যে লুকিয়ে না রেখে আজই কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরবর্তীতে মলদ্বারের প্রতিটি রোগ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন লেখায় বিস্তারিত আলাপ করা হবে।