খাদ্য ও পুষ্টি

প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার ৭টি সুফল

বি.এস.সি (অনার্স) পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি, মাস্টার্স ইন পাবলিক হেলথ (অধ্যায়নরত)।

অস্বীকার করার উপায় নেই যে স্বাদ ও গন্ধে খেজুর অতুলনীয়। পুষ্টির দিক দিয়েও কিন্তু কম নয়। প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুর প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম (৬৯৬ মিলিগ্রাম), ম্যাগনেসিয়াম (৫৪ মিলিগ্রাম), ভিটামিন বি-৬ (০.২ মিলিগ্রাম), ফাইবার বা আঁশ (৬.৭ মিলিগ্রাম), ম্যাঙ্গানিজ (০.৩ মিলিগ্রাম), ও কপার (০.৪ মিলিগ্রাম)-এর যোগান দেয়। এই উপাদানগুলো আমাদের দৈনিক চাহিদার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত খেজুর খেলে শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী এসব খাদ্য উপাদানের উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করা যায়। আসুন জেনে নেই, প্রতিদিন খেজুর খেলে কি কি শারীরিক উপকারিতা পাওয়া যায়।

১. শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি: এক সপ্তাহ ধরে যদি দৈনিক তিনটি করে খেজুর খান, তবে নিঃসন্দেহে আপনার শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে। কারণ প্রতিটি খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, এবং সুক্রোজ। যা তাৎক্ষণিক শক্তি ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। এছাড়াও খেজুরে রয়েছে প্রচুর ফাইবার। সুতরাং, এখন থেকে পকেটে তিনটি করে খেজুর রাখুন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে এনার্জি ড্রিংস খাওয়া বাদ দিয়ে খেজুর খেতে পারেন।

২. হজমশক্তি বৃদ্ধি: খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সল্যুবল ফাইবার, যা আপনার সুস্থ পাকস্থলীর জন্য অপরিহার্য। সল্যুবল ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে, খাদ্যনালীর মুভমেন্ট স্বাভাবিক করে এবং কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া খেজুরে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে, যা ডায়রিয়া প্রতিরোধ এবং পেটের পীড়ায় ওষুধের কাজ করে। সুতরাং হজমশক্তি বৃদ্ধি ও পাকস্থলীর স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য খেজুরের ভূমিকা অপরিহার্য।

৩. রক্তশূন্যতার প্রতিকার ও প্রতিরোধ: আমাদের দেশে নারী ও শিশুদের মধ্যে রক্তশূন্যতার প্রবণতা খুব বেশি। নিয়মিত খেজুর খেয়ে খুব সহজেই এই সমস্যার সমাধান করা যায়। কারণ খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, যা রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায়। আর তাই প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস করলে এই সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়া কোন ব্যাপারই না।

৪. সুস্থ ও মজবুত হাড় গঠন: খেজুরে প্রচুর পরিমাণে সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এই সকল মিনারেল বা খনিজ পদার্থ হাড়ের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।

৫. খেজুর স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়:  খেজুরে শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল (LDL)- এর পরিমাণ কমায়।  LDL সাধারণত দেহের রক্তনালীগুলোতে জমাট বাঁধে এবং রক্তচলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। খেজুরে প্রচুর পটাশিয়াম থাকার তা শরীর থেকে LDL কমাতে সাহায্য করে। বিপরীতে স্ট্রোকেএবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।

৬. মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি: গবেষণায় দেখা গেছে, খেজুরে যে পরিমাণ ভিটামিন বি-৬ আছে তা একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক চাহিদা পূরণ করার জন্য যথেষ্ট। ভিটামিন বি-৬ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এজন্য কারো স্কুল পড়ুয়া সন্তান থাকলে তাকে প্রতিদিন খেজুর খেতে দিতে  বলা হয়ে থাকে  থাকে।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: খেজুরের সেলেনিয়াম ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

ছবি: খেজুর

ছবি: খেজুর

উপরে বর্ণিত উপকার ছাড়াও শারীরিক সুস্থতা রক্ষায় খেজুরের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যেমন:

– খেজুর ওজন কমাতে সহায়তা করে।

– এটি ডায়রিয়া প্রতিরোধে সহায়তা করে।

– এটি পাইলস বা Hemorrhoids প্রতিরোধে সহায়তা করে।

– গর্ভাবস্থায় সুস্বাস্থ্য প্রদান ও নিরাপদ প্রসবে সহায়তা করে।

– কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে এটি বিশেষ উপকারী।

– খেজুর শ্বাসযন্ত্রেরও উন্নতি ঘটায়।

এতই যখন উপকার, তবে আর দেরি কেন। আজ থেকেই প্রতিদিন অন্তত তিনটি করে খেজুর খাওয়া শুরু করুন। আপনিও দ্রুত উপকার পাওয়া শুরু করবেন।