লাইফস্টাইল

কেমন হওয়া উচিত কর্মজীবি নারীর সকালের নাস্তা: ৫টি টিপস

বি.এস.সি (অনার্স) পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি, মাস্টার্স ইন পাবলিক হেলথ (অধ্যায়নরত)।

আমরা সবাই জানি সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে অন্তত তিন বেলা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার উচিত। এর মধ্যে সকালের নাস্তার গুরুত্ব সব চাইতে বেশি। বিশেষ করে কর্মজীবি নারীদের সুস্বাস্থ্যের জন্য সকালের নাস্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, রাতের বেলায় দীর্ঘ একটি সময় আমরা না খেয়ে থাকি। ফলে সকাল বেলা পেট থাকে একেবারে ফাঁকা। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যকর নাস্তা গ্রহণ করলে দেহ ও মন চাঙ্গা থাকে। পাশাপাশি একটি কর্মব্যস্ত দিনের শুভ-সূচনা হয়।

তবে আশংকার বিষয় হচ্ছে, অনেক কর্মজীবি নারীই সকালের নাস্তা ঠিকমত করেন না। সময়ের অভাবে বা ব্যস্ততার অজুহাতে বেশিরভাগ নারী সকালের নাস্তা না করেই কাজে বেরিয়ে পড়েন। ফলে তাদের নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। কর্মক্ষেত্রেও কাঙ্খিত সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়ে উঠে না। তাই সংসার বা অফিসের যত ঝামেলাই থাকুক না নিয়মিত সকাল বেলা নাস্তা সেরে নেয়া উচিত। চলুন কর্মজীবি নারীদের সকালের নাস্তা বিষয়ক ৫টি টিপস জেনে নেই-

১. সকাল বেলা নাস্তা হিসাবে সবজির সাথে রুটি খেতে পারেন। সবজি যেমন পুষ্টি চাহিদার বিশাল অংশ পূরণ করে, তেমনি রুটি কম ক্যালরিতে বেশ ফাইবার (আঁশ) ও মিনারেল (খনিজ পদার্থ) সরবরাহ করে। তাছাড়া রুটি একই সাথে সহজপাচ্য ও দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে ক্ষুদা কম লাগে। তবে রুটি খান বা না খান, সবজি খাওয়াটা জরুরী।

. সাপ্তাহিক বা মাসিক বাজারের তালিকায় যতটা সম্ভব স্বাস্থ্যকর খাবার রাখার চেষ্টা করুন। ফ্রোজেন ফুড বা রেডি-টু-ইট খাবার বাদ দিয়ে তাজা ও সজীব খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। যত বেশি সম্ভব ফল-মূল ও শাক-সবজি কেনার চেষ্টা করুন। প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।

আরো পড়ুন  ডায়াবেটিসের জটিলতা মোকাবেলায় ১০টি সহজ টিপস

৩. সকালের নাস্তায় যেকোন একটি ফলের জুস খেতে পারেন। এছাড়া নাস্তায় দুধ বা দুগ্ধজাত প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার থাকাটা ভালো। সেক্ষেত্রে কিছু দুগ্ধজাত খাবার যেমন কাস্টার্ড, পুডিং, স্মুদি বা সুজি ইত্যাদি খেতে পারেন।

৪. সকালের নাস্তায় ডিম খেতে পারেন। ডিম একদিকে প্রোটিন বা আমিষের চাহিদা পূরণ করে। অন্যদিকে ভিটামিন এ, ডি, ই, আয়রন, জিংক, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস সহ প্রায় সকল ধরনের পুষ্টি চাহিদাই পূরণ করতে সক্ষম। এছাড়া ডিম স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ, কোলেস্টেরল-এর চাহিদা পূরণ সহ আরো অনেক উপকার করে। সিদ্ধ, পোচ, ভাজি কিংবা রান্না যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই ডিম খেতে পারেন। তবে, যাদের ওজন বেশি বা যারা জটিল কোন রোগে ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত খাবার ও ডিম খাওয়ার আগে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেয়া জরুরী।

৫. যদি সকালের নাস্তায় প্যাকেটজাত খাবার খেয়ে অভ্যস্ত থাকেন, তবে অবশ্যই ভালো করে প্যাকেটের গায়ের লেবেল দেখে কিনতে ভুলবেন না। খাদ্য উপাদান দেখ স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। মনে রাখবেন, প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত সুগার বা সোডিয়াম থাকলে তাও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তবে সকালের নাস্তায় বাইরের প্যাকেটজাত খাবার কিংবা সিংগারা-সমুচা খাওয়া থেকে দূরে থাকাটাই উত্তম।