খাদ্য ও পুষ্টি

বদহজমের সমস্যায় কি খাবেন?

এম.বি.বি.এস, সি.সি.ডি। চিকিৎসক, শিক্ষক ও স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখক। ফিচার লেখক, প্রথম আলো।

বদহজম একটি বিরক্তিকর সমস্যা। মাঝে মাঝেই সমস্যাটি প্রকট হয়ে ওঠে। পরিপাকতন্ত্রে বড় কোনো সমস্যা নেই, তবু সহজে কিছু হজম হয় না—এমন অভিযোগ করেন অনেকে। কিছু খেলেই তাদের পেট মোচড় দেয় বা কামড়ায় এবং মলত্যাগ করলে এই অস্বস্তি ভাব কমে। এদের মধ্যে কেউ কেউ কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন, কারও আবার পাতলা পায়খানা হয় বেশি। এ ধরনের সমস্যার নাম ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রম বা আইবিএস। এর সুনির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ধরনে পরিবর্তন এনে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে।

মূলত এই সমস্যাটি মানসিক অস্থিরতার কারণে হয়ে থাকে।  এছাড়াও কোন কোন রোগের উপসর্গ হিসাবে, পরিবেশ দূষণ জনিত কারনে, ভেজাল কিংবা দূষিথ খাবার গ্রহণ ইত্যাদি কারনে সমস্যাটি হতে পারে। এসব রোগীর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করালে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণত তেমন কিছুই পাওয়া যায় না। এজন্য তারা আরও চিন্তিত হয়ে পড়েন। ভাবেন কি না কি হয়েছে, কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ছে না। তবে বার বার ও দীর্ঘদিন যাবৎ বদহজমের সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

রোগের লক্ষণ:

বদহজমের রোগীরা সাধারণত দুই ধরনের সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসতে পারেন। এক ধরনের রোগী আসেন ডায়রিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে এবং অন্য ধরনের রোগী আসেন কোষ্ঠকাঠিন্যজনিত সমস্যা নিয়ে। যেসব রোগী ডায়রিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে আসেন তারা প্রায়ই ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়া, পরিপূর্ণভাবে পায়খানা না হওয়া, মিউকাস বা আম যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গের কথা বলেন। আর তারা কোষ্ঠকাঠিন্য, পায়খানার রাস্তায় ব্যথা ও পেটে ব্যথা এসব সমস্যায় ভোগেন। এ রকম অনেক রোগী অনেক সময় মলদ্বারের বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগে থাকেন। তবে বদহজমের ধরন বুঝে খাবার গ্রহণ করলে সহজেই এই সমস্যা থেকে ভাল থাকা যায়।

কেমন হবে খাবার তালিকা:

ক. সমস্যা যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য: ময়দার রুটি বা পাউরুটি, সরু বা আতপ চালের ভাত বা পোলাও, সাদা আটার রুটি ইত্যাদি খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীর না খাওয়াই ভালো। চিপস, কুকিজ বা বেকারির বিস্কুট এবং কফি ও কার্বনযুক্ত পানীয়ও তাদের জন্য খারাপ। মাংসের তৈরি খাবারও সমস্যা বাড়াতে পারে। এসব রোগীদের জন্য যে খাবারগুলো ভালো তা হচ্ছে:

১. পূর্ণ দানাদার শস্যের তৈরি খাবার। যেমন: লাল চালের ভাত, লাল আটার তৈরি রুটি।

২. ওটমিল, বীজজাতীয় খাবার যেমন: বরবটি, মটরশুঁটি, ফলমূল ও শাকসবজি।

৩. শুষ্ক ফল যেমন: কিশমিশ।

৪. প্রচুর পানি পান করতে হবে।

৫. দৈনিক প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবারও খেতে হবে।

খ. ডায়রিয়া যার সমস্যা: কারও আবার খাবারে একটু এদিক-ওদিক হলেই পাতলা পায়খানা হয়। যাদের এই ধরনের সমস্যা হয় তাদের বেশি আঁশযুক্ত খাবার যেমন খোসাসহ ফল বা সবজি এড়িয়ে চলতে হবে । চকলেট, ভাজা-পোড়া ও তেলযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। অনেকের জন্য দুধ ও দুধের তৈরি খাবারও বদহজমের কারন হতে পারে। একসঙ্গে প্রচুর না খেয়ে একটু একটু করে বারবার খেতে হবে।  খুব ঠান্ডা ও খুব গরম খাবার (যেমন: গরম স্যুপ ও ঠান্ডা পানীয়) একই সঙ্গে গ্রহণ করা যাবে না। মাঝারি মাত্রার আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে। তবে কাঁচা সবজি না খাওয়াই ভালো। বিশেষ করে শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, পেঁয়াজজাতীয় সবজি পেটে গ্যাস বাড়াতে পারে।