স্বাস্থ্য

হেপাটোমেগালি বা লিভার বড় হওয়ার ১০টি কারন

সহকারী অধ্যাপক, হেপাটোলজী বিভাগ, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।

শরীরের অভ্যন্তরে সবচেয়ে বড় অঙ্গটির নাম লিভার বা যকৃত। এটা শরীরের অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ। বিভিন্ন কারনে লিভার বড় হতে পারে। প্রথমেই বলে রাখা ভাল যে, পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা (Nutritional Imbalance) সেটা অপুষ্টি বা অতিপুষ্টি যাই হোক না কেন তা লিভার বড় হবার অন্যতম প্রধান কারন।

লিভার বড় হবার কারণ সমূহের উৎপত্তিগত দিক থেকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়। তবে প্রধাণ কারনগুলো হচ্ছে-

১. একিউট হেপাটাইটিস বা আকস্মিক লিভারের প্রদাহ: এতে লিভার বড় হবার পাশাপাশি চাপ প্রয়োগে ব্যথা অনুভূত হয়। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে টেন্ডার হেপাটোমেগালি (Tender hepatomegaly) । এ জন্য সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসকে দায়ী করা হয়। যেমন- হেপাটাইটিস এ, বি, ই এবং সি ভাইরাস।

২. টিবি বা যক্ষা রোগের ওষুধ এর কারণেও হেপাটাইটিস হয়ে থাকে।

৩. তাছাড়া লিভারের অভ্যন্তরে ফোড়া (Liver abscess) হলে তা বড় হতে পারে।

৪. লিভারের ক্যান্সার (Hepatocellular carcinoma) হলে হেপাটোমেগালি হতে পারে।

৫. লিভারে সাধারণ সিস্ট (simple hepatic cyst) ও হাইডাটিড সিষ্ট (hydatid cyst) হলেও লিভার বড় হয়।

আরো পড়ুন  পিত্তথলির অপারেশনে ল্যাপারোস্কপি কেন করবেন?

৬. ফ্যাটি লিভার: বর্তমানে সারা বিশ্বে ফ্যাটি লিভার জনিত সমস্যা বেশ গুরুত্ব পেয়েছ । শরীরের অন্যান্য স্থানে অতিরিক্ত চর্বি উপাদান জমার প্রভাব পড়ে লিভারে। ফলে লিভার বড় হয়।

৭. হার্ট ফেইলিউর (congestive cardiac failure): এ কারনে লিভা বড় হলে লিভারে চাপ প্রয়োগে ব্যথা হতে পারে।

৮. শরীরের অন্যান্য স্থানের ইনফেকশন। যেমন: টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া, কালা জ্বর হলে লিভারে বড় হয়।

৯. থ্যালাসেমিয়া: বংশগত রোগ থ্যালাসেমিয়াও লিভার বড় হবার একটি কারণ।

১০. ক্যান্সার: শরীরের বিভিন্ন ক্যান্সার যেমন: লিউকেমিয়া, লিম্পোমা বা পিত্তথলি, পাকস্থলি, বৃহদান্ত্র, ফুসফুস প্রভৃতি অঙ্গের ক্যান্সার পর্যায়ক্রমে লিভার ছড়াতে পারে এবং ফলস্বরূপ লিভার বড় হয়।

লিভার বড় হলেই আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। লিভারের রোগ ও জটিলতা থেকে বাঁচতে হলে দরকার সচেতনতা, সঠিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জ্ঞান ও তার প্রয়োগ, প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা এবং হেপাটাইটিস বি-এর টিকা গ্রহণ করা। তাই কোনভাবে যদি জানতে পারেন যে লিভার বড় হয়েছে তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং সুস্থ থাকুন।