মা ও শিশু

শিশুদের ওরাল থ্রাস প্রতিরোধের ৪টি উপায়

চিকিৎসক, শহীদ সোহরাওয়ার্দি মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।

অনেক সময় শিশুর মুখের ভেতর সাদা সাদা ছোপ দেখা যায়। মুছে দিলেও তা যেতে চায় না। এ অবস্থায় শিশুকে খাওয়াতে গেলে সে খুব কান্না করে। খাওয়ার জন্য বেশি চাপ দিলে বাচ্চার কান্নার হার আরো বেড়ে যায়। আপনার শিশুর ক্ষেত্রেও এমনটি হলে বুঝবেন তার ওরাল থ্রাস হয়েছে। ওরাল থ্রাস কি এবং কেন হয়, তা নিয়েই আমাদের আজকের অবতারণা।

ওরাল থ্রাস কি এবং কেন হয়?

ছবি: ওরাল থ্রাসকে মুখের ভিতর দুধের একটা পাতলা স্তরের মত মনে হয়।

ওরাল থ্রাস মূলত ক্যান্ডিডা (Candida) নামক এক ধরণের ছত্রাকের ইনফেকশন। আমাদের সবার মুখের ভিতরেই এই ছত্রাক থাকে। কিন্তু সবার এই সমস্যা দেখা দেয় না। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদেরই ওরাল থ্রাস বেশি দেখা যায়। কোন কারণে বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে যেমন, যদি বাচ্চাকে অথবা বাচ্চার মাকে এন্টিবায়োটিক খেতে দেয়া হয় অথবা অন্য কোন রোগের কারণে যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় তাহলেই এই ওরাল থ্রাস দেখা যায়।

লক্ষণঃ

ওরাল থ্রাসের আক্রমণ বুঝতে পারা একটু কঠিন। প্রথম দিকে এটাকে মুখের ভিতর দুধের একটা পাতলা স্তরের মত মনে হয়। এজন্য পুরো জায়গাটুকু সাদা ছোপ ছোপ না হলে সাধারণত বোঝা যায় না। ওরাল থ্রাস হলে ঠোঁটের ভিতরের দিক, মাড়ি, গাল, জিহবা, এবং তালুতে সাদা বা হালকা হলুদ বর্ণের একটা স্তর পড়ে। এটা হাল্কা ঘষা দিলে যাবে না। কিন্তু দুধের স্তর পড়লে তা ঘষা দিলেই চলে যাবে। অনেক সময় এর সাথে হাল্কা ব্যথা থাকতে পারে। এ কারণে বাচ্চারা খেতে চায় না বা নিপল মুখের ভিতর দিলে কান্না করতে থাকে।

আরো পড়ুন  মেয়েদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা ও ডোজ শিডিউল

চিকিৎসাঃ

ওরাল থ্রাস হলে ভয়ের কোন কারণ নেই। এরকম লক্ষণ দেখা দিলে আপনার নিকটস্থ শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক অ্যান্টি ফাঙ্গাল জেল অথবা ড্রপ ব্যবহার করলে ২ সপ্তাহের মাঝেই সাধারণত এটা ভাল হয়ে যায়।

প্রতিরোধঃ

১। বাচ্চাদের হাতের নাগাল থেকে অপরিচ্ছন্ন জিনিসপত্র দূরে রাখতে হবে।
২। বাচ্চাদের সাধারণ স্বভাব হল যেকোন জিনিস মুখে দেয়া। তাই তাদের খেলাধূলা ও ব্যবহারের যাবতীয় সামগ্রী নিয়মিত গরম পানিতে পরিষ্কার করতে হবে।
৩। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এবং খাওয়ানোর পর যথাযথ পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করতে হবে।
৪। খাওয়ানোর পর প্রয়োজন হলে শিশুদের মুখ কুসুম গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করে দিতে হবে যাতে সেখানে খাবার লেগে না থাকে।