মা ও শিশু

শিশুর ট্যারা চোখ: প্রতিকারে করণীয়

কনসালট্যান্ট, পেডিয়াট্রিক অফথালমোলোজি ও স্ট্র‍্যাবিসমাস।

স্কুইন্ট বা ট্যারা চোখ আমাদের সমাজে খুবই অবহেলিত একটি সমস্যা। এ সমস্যাকে কখনোই বড় করে দেখা হয় না। লক্ষ্মী ট্যারা কিংবা মায়াবী ট্যারা ইত্যাদি নামে ডেকে অনেকেই বিষয়টিকে হালকা করে তুলেন। অথচ ট্যারা চোখ সত্যিই একটি বড় সমস্যা।

ট্যারা চোখ সমস্যা কেন?

১. ট্যারা চোখের মানুষের যেই চোখটি বাঁকা থাকে সেই চোখ তারা ব্যবহার করে না। মস্তিষ্ক ইমেজ ওভারল্যাপ বা কনফিউশন অথবা ডিপ্লোপিক ভিশনের জন্য সেই দৃষ্টিকে অগ্রাহ্য করে রাখে। একে বলে সাপ্রেশন (supression)।
২. ট্যারা চোখের মানুষেরা বাইনোকুলার ভিশন থেকে বঞ্চিত হয়। থ্রি ডি ইমেজ তারা কখনোই সেভাবে দেখতে পারেনা।
৩. কোন জিনিস কতটুকু গভীর তার ধারণা করা সম্ভব হয় না। অর্থাৎ ট্যারা চোখের অধিকারীদের depth perception থাকেনা। ফলে বাস্তব জীবনে বা কর্মক্ষেত্রের অনেক কাজে তারা আনফিট থাকে।
৪. ট্যারা চোখে অনেক ক্ষেত্রে supression জনিত কারণে অলস চোখ বা lazy eye কিংবা amblyopia তৈরী হয়। এর ফলে বাঁকা চোখের দৃষ্টি আশংকাজনক ভাবে কমে যায়।

ছবি: কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ট্যারা চোখের চিকিৎসা সহজেই করা সম্ভব।

চিকিৎসা:

কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ট্যারা চোখের চিকিৎসা সহজেই করা সম্ভব। আশ্চর্য ব্যাপার হলো সঠিক পাওয়ারের একটি চশমাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সমস্যা সারিয়ে তুলতে পারে। তবে এই পাওয়ার দেয়ার হিসাবটা সাধারণ চশমার চেয়ে আলাদা। এক্ষেত্রে ভুল পাওয়ার-এর চশমা ব্যবহার করলে তা বিপদ বরং বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সমস্যার সমাধানে পেডিয়াট্রিক অফথালমোলোজি ও স্ট্র‍্যাবিসমাস (=বাঁকা চোখ) বিভাগ বা সাব স্পেশালিটিতে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিতে হবে।  মনে রাখবেন, আপনার শিশুর চোখের সামনে সঠিক সময়ে সামান্য দুটো কাঁচই বদলে দিতে পারে তার পৃথিবী।

আরো পড়ুন  গর্ভাবস্থায় ধূমপানের ১১টি ক্ষতিকর প্রভাব