খাদ্য ও পুষ্টি

রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমানোর সহজ ৪টি উপায়

রিসার্চ ফেলো ও ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, মেলবোর্ন হাসপাতাল, অস্ট্রেলিয়া।

খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাস বদলিয়ে অনেকের পক্ষেই রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমানো সম্ভব। এজন্য নীচের চারটি কৌশল অনুসরণ করলে অনেকে উপকার পাবেনঃ

১। অসম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার বেশী খান: সম্পৃক্ত চর্বি এবং ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার পরিহার করুন। বেশীরভাগ উদ্ভিজ্জজাত চর্বি (তেল) অসম্পৃক্ত চর্বিসমৃদ্ধ। এটা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছেঃ তৈলাক্ত মাছ, বাদাম, তিল, সয়াবিন, শস্য বীজ এবং সবজি। অধিকাংশ গোশতে সম্পৃক্ত চর্বি থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল নয়। কলিজা, মগজ, ডিমের কুসুম, চিংড়ি, ঘি-মাখন খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চিপস, ফাস্ট ফুড এবং অনেক প্যাকেটে সংরক্ষিত খাবারে ট্রান্স ফ্যাট থাকে। ট্রান্স ফ্যাট হচ্ছে আংশিক জারিত ভেজিটেবল অয়েল। এটা যত কম খাওয়া যায় ততই মঙ্গল।

২। আঁশযুক্ত খাবার বেশী খান: বিভিন্ন ফল, সবজি, ওট, যব, ভুট্টা ইত্যাদি খাবারে প্রচুর আঁশ থাকে। আঁশযুক্ত খাবার রক্তের কোলেস্টেরল কমানোর জন্য বিশেষ উপকারী।

৩। খাবারে উদ্ভিজ্জজাত স্টেরল এবং স্ট্যানল যোগ করুন: উদ্ভিজ্জজাত স্টেরল এবং স্ট্যানল কোলেস্টেরলের মত; কিন্তু কোলেস্টেরল নয়। স্টেরল এবং স্ট্যানল খেলে শরীরে কোলেস্টেরল পরিশোষণের পরিমাণ কমে যায়। দই এবং বিভিন্ন ফলের রসে প্রচুর স্টেরল এবং স্ট্যানল থাকে।

আরো পড়ুন  বদহজমের সমস্যায় কি খাবেন?

৪। নিজেই ঠিক করুন কি খাবেন: কোন ধরনের খাবার আপনার কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করছে তা আপনাকেই নির্ধারণ করতে হবে। কারণ একজন যে সব খাবারে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে পারবেন, অন্য একজন সে ধরনের খাবারে উপকার নাও পেতে পারেন। আপনাকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য গ্রহণ করে তার ফলাফল দেখতে হবে এবং এভাবেই আপনি বুঝতে পারবেন কোন খাবারে আপনি প্রকৃত উপকার পাবেন।

সাধারণত খাদ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রক্তের কোলেস্টেরল ২৫%  কমানো সম্ভব। সঠিক খাবার নির্বাচন কোলেস্টেরল কমানোর একটি সহজ কিন্তু কার্যকরী উপায়। তবে ব্যক্তিভেদে এর ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করেও কোলেস্টেরল না কমলে হতাশ হবেন না। কারণ খাদ্য নিয়ন্ত্রণ এবং কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ অনেক সময় একে অপরের পরিপূরক। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করে কোলেস্টেরল না কমলেও হয়ত আপনার ওষুধ কম লাগবে। কিন্তু কোলেস্টেরল কমানোর চেষ্টায় খাদ্য নির্বাচনের ভূমিকা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ।